সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৮ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভূমি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির গল্প নতুন নয়। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ফাইলবন্দি সেবা আর কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি যেন এই খাতের এক অভিশপ্ত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এক আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে যেন ভূ-মণ্ডলীয় অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রটিই চোখের সামনে ভেসে উঠল ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরে কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি দেখে প্রতিমন্ত্রী নিজের ক্ষোভ গোপন করতে পারেননি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সকালবেলা যখন প্রতিটি সরকারি দপ্তরে পুরোদমে কাজ শুরু হওয়ার কথা, তখন আমিনবাজার ভূমি অফিসের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিমন্ত্রী যখন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। যে প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের জমিজমা সংক্রান্ত যাবতীয় নিরাপত্তা ও জটিল কাজ নির্ভর করে, সেখানে এমন নীরবতা কেবল হতাশারই জন্ম দেয়। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই কার্যালয়ে কর্মরত আটজন কর্মকর্তার মধ্যে সেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন। বাকিদের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা কর্মস্থলে পৌঁছানোর প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি। সবচাইতে বিস্ময়কর ছিল স্বয়ং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসাইন খানের অনুপস্থিতি। প্রতিমন্ত্রীর আগমনের ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি অফিসে এসে পৌঁছান। একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন আচরণ যে কোনো দপ্তরের সেবার মানকে কতটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল সেদিন।

প্রতিমন্ত্রী যখন অফিসে উপস্থিত ছিলেন, তখন অফিসের বাইরে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষগুলো তাদের জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, একটি সাধারণ মিউটেশন বা নামজারির জন্য তাদের দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকে, অথচ কোনো কাজের কাজ হয় না। মানুষের এই অসহায় আর্তনাদ শুনে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং উপস্থিত সেবাপ্রার্থীদের অভয় দেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেন যে, জনগণের করের টাকায় তাদের বেতন হয়, আর সেই জনগণের সেবার বিনিময়ে হয়রানি করা মানে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। এই ভোগান্তি কমাতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী কেবল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি দেখেই থেমে থাকেননি, তিনি অফিসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করতেও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই ফুটেজে যদি দেখা যায় কর্মীরা নিয়মিত ফাঁকি দিচ্ছেন, তবে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য লজ্জার। এছাড়া অফিসের তথ্যকেন্দ্র ও হেল্প ডেস্কের নাজুক অবস্থা দেখেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। একটি সেবা কেন্দ্রে যদি সাধারণ মানুষ ঠিকঠাক তথ্যই না পায়, তবে সেখানে ডিজিটাল সেবা বা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কীভাবে সম্ভব? যদিও রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি ইউনিটের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে, তবুও সামগ্রিক বিচারে অফিসটির প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল স্পষ্ট।

কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সার্ভারজনিত সমস্যার দোহাই দেওয়া হলেও প্রতিমন্ত্রী তা সহজভাবে মেনে নেননি। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু সেটির সমাধানের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, তাতে গাফিলতি ছিল চরম। সার্ভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেন এ বিষয়ে সতর্ক করা হলো না বা কেন দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যাটি জিইয়ে রাখা হলো, তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শুধু সময়মতো অফিসে উপস্থিত হওয়াই দায়িত্বের শেষ কথা নয়, বরং নাগরিকদের দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের আসল পরীক্ষা।

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ে ভূমি সেবার মানোন্নয়ন। রেকর্ড রুম পরিদর্শন করে তিনি নথি সংরক্ষণ পদ্ধতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং পুরোনো নথিগুলো আরও সুসংগঠিত করার পরামর্শ দেন। প্রতিটি ফাইল যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য তিনি একটি জবাবদিহিতামূলক কর্মপদ্ধতি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি ভূমি অফিসে জনবল বাড়ানো থেকে শুরু করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এই পরিদর্শনের ঘটনাটি কেবল আমিনবাজার অফিসের কর্মকর্তাদের জন্যই নয়, বরং সারা দেশের সরকারি অফিসগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, অনেকে ক্ষমতার দম্ভে বা কর্মবিমুখতার কারণে সেটিকে ভুলে যান। প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান আশা জাগাচ্ছে যে, হয়তো এবার ভূমি খাতের দীর্ঘদিনের এই অচলবস্থা কাটতে শুরু করবে। সাধারণ মানুষ চায় না কোনো প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, তারা কেবল চায় তাদের ফাইলগুলো সময়মতো নিষ্পত্তি হোক এবং অফিসে গেলে যেন মানুষ হিসেবে প্রাপ্য সম্মানটুকু তারা পায়।

পরিশেষে, আমিনবাজার ভূমি অফিসের এই ঘটনা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ ধরনের পরিদর্শন নিয়মিত চালানো হলে কর্মকর্তারা চাপে থাকবেন এবং কাজের গতি বাড়বে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের এই আকস্মিক পরিদর্শন প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সেবার মান উন্নয়নে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্টরা প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে কতটুকু আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন এবং আগামী দিনে আমিনবাজার ভূমি অফিসের সেবার মান সত্যিকার অর্থেই জনগণের নাগালের মধ্যে আসে কি না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও জনবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠুক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত