সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১১ জুন, ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন, যা গত ৭ মে থেকে শুরু হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজেটের বিশালতা বাড়ার পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশ্ববাজারের ঝুঁকি মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ফলে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রেখে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার দৃঢ় লক্ষ্য স্থির করেছে। তবে এটি কোনো সহজসাধ্য লক্ষ্য নয়, কারণ বাজারে পণ্যের দামের অস্থিতিশীলতা রোধে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন। বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিশাল ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিই এখন বাজেট পেশের প্রাক্কালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে একদিকে যেমন রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে, তেমনি অন্যদিকে অপচয় রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাত যে স্থবিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রণোদনার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাজেটে বিশেষ নির্দেশনা থাকতে পারে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার উপস্থাপনায় কীভাবে আধুনিক ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের পথ দেখাবেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদ ভবন এলাকায় এক উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সংসদ সদস্যরা এখন এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন চাহিদা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব। বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। কৃষকরা চাইছেন সার ও বীজের ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে, শিক্ষার্থীরা চাইছেন গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষ চাইছেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো সমাধান। বাজেট যে শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের দলিল—সে বিষয়টি সরকার কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে, তা ১১ জুনের বাজেট প্রস্তাবনায় ফুটে উঠবে।

সরকারের অন্যতম বড় কৌশল হতে যাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিস্তৃত করা। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং খাদ্য সহায়তার আওতা বাড়ানো এই বাজেটের একটি মানবিক দিক হতে পারে। এছাড়া সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর কতটুকু নির্ভরশীল হবে এবং বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে কীভাবে কৌশলী ভূমিকা পালন করবে, তা বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চলমান রাখা এবং সেগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কতটুকু বরাদ্দ রাখা হয়, সেটির ওপরও অর্থনীতির অনেক সূচক নির্ভর করছে।

বাজেট পেশের দিনটি অর্থমন্ত্রীর জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গোটা জাতির জন্য এটি একটি দিকনির্দেশনা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার কতটা সাহসী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে পারে, তা ১১ জুনের বক্তব্যে স্পষ্ট হবে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার হয়তো নতুন কোনো রাজস্ব সংস্কার বা কর কাঠামোর পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকুক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। আগামী অর্থবছরের এই বাজেটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সামনের কঠিন দিনগুলো কতটা সফলতার সাথে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

সবশেষে বলা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি একটি সংকটময় সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন লড়াইয়ের ইশতেহার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার ভাষণে কীভাবে দেশের অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করবেন, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশ্নে সরকার কতটা আপসহীন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা আন্তরিক, তা এই বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে। সংসদ অধিবেশনে বাজেট পেশের পরবর্তী আলোচনা ও পর্যালোচনায় হয়তো উঠে আসবে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র এবং তা উত্তরণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত