সর্বশেষ :
বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রণীত বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আগ্রহ আশুরার রোজার ফজিলত: গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সুযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ তরুণের পায়ে গুলি: ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী থালা-বাসন পরিষ্কার নিয়ে বিরোধ, মালিকের হাতুড়ির আঘাতে হোটেলকর্মী নিহত

শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় জনসমুদ্র

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল আজ যেন অন্য এক রূপ নিয়েছে। সকাল গড়ানোর আগেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও চোখে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দেখার আগ্রহ। আবার মাঠের একপাশে অপেক্ষা করছেন ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য উপকারভোগীরা। সবার মনেই এক ধরনের আশা, উৎসাহ ও অপেক্ষার মিশ্র অনুভূতি।

আজ বুধবার দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী তিনি সকালে সিলেটে পৌঁছে সড়ক পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হন। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকরা সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারক করেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তার আওতায় আরও নিয়মিত ও সহজভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই কারণে অনুষ্ঠানটি শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং অনেক পরিবারের কাছে এটি একটি বাস্তব সহায়তার দিনের মতো।

সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ আসতে থাকে। শ্রীমঙ্গল শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল বাড়ে। ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠের আশপাশে তল্লাশি, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সমাবেশস্থলে দেখা যায়, দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। কেউ এসেছেন প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে দেখার জন্য। কেউ এসেছেন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে। আবার অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য সরাসরি সহায়তার পথ খুলে দিতে পারে। মাঠে আসা মানুষের মুখে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি। তবে সেই ক্লান্তির চেয়ে বেশি ছিল উৎসাহ।

শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, পাহাড়ি টিলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং পর্যটনের জন্য পরিচিত। আজ সেই পরিচিত শহর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সমাবেশস্থলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা নিজস্ব পোশাকে মাঠে আসেন। এতে পুরো আয়োজনে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যোগ হয়। অনেকেই বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় মানুষ নিজেদের দাবি ও বাস্তবতার কথা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ দেখছেন।

কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে সহায়তার চেক দেওয়ার কথাও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ উদ্যোগকে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ চা-বাগানঘেরা এই অঞ্চলে অনেক পরিবার এখনো কম আয়ে জীবন চালায়। চিকিৎসা, খাদ্য, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে তারা প্রায়ই চাপের মুখে পড়ে। তাই সহায়তার চেক ও ফ্যামিলি কার্ড অনেকের কাছে কাগজের নথি নয়, বরং নিরাপত্তার একটি ছোট ভরসা।

মাঠে আসা শাহান আলী মুসা বলেন, তিনি সকাল ৯টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য। তার ভাষায়, চায়ের দেশে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন বলেই হাজারো মানুষ এখানে এসেছে। এই বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের আবেগের একটি ছবি পাওয়া যায়। অনেকের কাছে এই সফর শুধু প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়। বরং এটি জেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নজর দেওয়ার একটি বার্তা।

তবে জনসমাগম ও রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের মাঝেও কর্মসূচির মূল বিষয়টি রয়ে গেছে সামাজিক সুরক্ষা। ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার সফলতা নির্ভর করবে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছ বিতরণ এবং নিয়মিত সেবার ওপর। স্থানীয় মানুষ আশা করছেন, কার্ড বিতরণের পর সহায়তা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত না থাকে। বরং তা যেন দরিদ্র পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে শ্রীমঙ্গল শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দোকানপাট, সড়ক, মাঠের আশপাশ এবং প্রবেশপথে মানুষের ভিড় বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দিনটিকে ব্যস্ত দিনের মতো দেখছেন। অনেকেই সকাল থেকে মাঠের দিকে যাচ্ছেন। কেউ আবার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর দেখার অপেক্ষা করছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বড় সমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা জরুরি। এ কারণে মাঠের বাইরে ও ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ে। আয়োজকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম, আসনব্যবস্থা ও উপকারভোগীদের জন্য আলাদা স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শ্রীমঙ্গল সফর স্থানীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ। মৌলভীবাজারের এই পর্যটননির্ভর ও কৃষিনির্ভর অঞ্চলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, চা-শ্রমিকদের জীবনমান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। তাই আজকের সফরকে অনেকে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রত্যাশার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখছেন।

শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানুষের অপেক্ষা তাই শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষা নয়। এটি সহায়তার আশায় থাকা মানুষের অপেক্ষা। এটি স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশার অপেক্ষা। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি সেই মানুষদের দিনের গল্প, যারা ভোর থেকে মাঠে এসে দাঁড়িয়েছেন এই আশায় যে রাষ্ট্র তাদের পাশে আরও দৃশ্যমানভাবে দাঁড়াবে।

দিনের আলো যত বাড়ছে, মাঠে মানুষের উপস্থিতিও তত ঘন হচ্ছে। নিরাপত্তা বলয়, সাজানো মঞ্চ, অপেক্ষমাণ উপকারভোগী এবং আগত মানুষের মুখে এক ধরনের আশাবাদী আবহ দেখা যাচ্ছে। এখন সবার চোখ একদিকে। কখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর এসে পৌঁছাবে, কখন শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা, আর কখন শ্রীমঙ্গলের এই মাঠ থেকে নতুন সামাজিক সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো জেলায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত