প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদিনের সফরে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার সকালে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এরপর সিলেটে পৌঁছে সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে সকাল থেকেই ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং কর্মসূচির আয়োজকেরা আগেই প্রস্তুতি নেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উপকারভোগী ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি সফরসূচির তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। এরপর তিনি সড়কপথে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরসূচি অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টে একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
মৌলভীবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রীর মূল কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্ড নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আশা করছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা আরও সহজভাবে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবার, চা-বাগান এলাকার শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তব সহায়তার পথ খুলে দিতে পারে।
শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, পাহাড়ি টিলা এবং পর্যটনের জন্য পরিচিত। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে অনেক পরিবারের জীবনে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ। খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন খরচ সামলাতে অনেক মানুষ নিয়মিত সংগ্রাম করেন। তাই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে তারা শুধু একটি সরকারি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না। অনেকে এটিকে পরিবার চালানোর লড়াইয়ে একটি সহায়ক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গল শহরে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের দিকে আসেন। কেউ এসেছেন কার্ড পেতে। কেউ এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে। আবার অনেকে এসেছেন এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশার কথা শুনতে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সড়কপথে যাত্রা, অনুষ্ঠানস্থল, জনসমাগম এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বড় জনসমাগমের কারণে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথে তল্লাশি এবং মাঠের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান। তাই তার মৌলভীবাজার সফর রাজনৈতিকভাবেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিকেলে দুসাই রিসোর্টে রাজনৈতিক সভায় তার বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তবে দিনের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া রয়েছে। পর্যটন, কৃষি, চা-শিল্প, সড়ক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়রা বহুদিন ধরে কথা বলে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অনেকে সেই বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তারা আশা করছেন, সফর থেকে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, বরং বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনার বার্তাও আসবে।
শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি আগেই শেষ করা হয়েছিল। উপকারভোগীদের বসার ব্যবস্থা, অতিথিদের আসন, মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম এবং নিরাপত্তা ঘিরে আয়োজন করা হয়। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। অনেকেই ভোর বা সকাল থেকেই মাঠে এসে জায়গা নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নারী, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে আশা আছে। কারণ বাজারে নিত্যপণ্যের দাম, চিকিৎসা ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচ এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। এমন বাস্তবতায় নিয়মিত সহায়তার সুযোগ পেলে তা পরিবারের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তাই উপকারভোগীদের চোখে এই কর্মসূচি একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবেও ধরা দিচ্ছে।
মৌলভীবাজার সদরেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুর আড়াইটার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকেরা প্রস্তুত রয়েছে। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনব্যাপী কর্মসূচি হওয়ায় সফরটি সময়ের দিক থেকেও ব্যস্ত। ঢাকা থেকে সিলেট, সেখান থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গল, পরে মৌলভীবাজার সদর, এরপর আবার শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টে রাজনৈতিক সভা। সবশেষে ঢাকায় ফেরা। এই দীর্ঘ কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের সমন্বয়ও বড় বিষয়। তাই প্রতিটি স্থানে সময় মেনে অনুষ্ঠান শেষ করার চেষ্টা থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মৌলভীবাজারে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি সামাজিক প্রত্যাশাও তৈরি করেছে। একদিকে নেতাকর্মীদের উৎসাহ, অন্যদিকে উপকারভোগীদের বাস্তব চাহিদা। এই দুই দিক মিলিয়ে সফরটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের মানুষ আজকের দিনটিকে উন্নয়ন ও সহায়তার নতুন বার্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়। এটি একটি জনমুখী সফর, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক বার্তা একসঙ্গে মিলেছে। এখন সবার চোখ শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের দুই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের দিকে। মানুষ অপেক্ষা করছে, এই সফর থেকে তাদের জীবনের বাস্তব সমস্যার জন্য কতটা আশার কথা আসে।