কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা এসব শাড়ি বিভিন্ন স্থানে মজুত ও পরিবহনের সময় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি পণ্যবাহী যানবাহন এবং কয়েকটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে দেশে আনা হয়েছিল।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত শাড়িগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনের নারীদের ব্যবহৃত শাড়ি রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি পণ্য দেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়ছেন দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও চোরাকারবারিরা প্রায়ই নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করে।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া শাড়িগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ফলে পণ্যগুলো জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশ মনে করছেন, অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য বাজারে প্রবেশ করায় দেশীয় বস্ত্র ও পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈধ আমদানিকারকরা যেখানে নির্ধারিত শুল্ক ও কর পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করেন, সেখানে চোরাই পথে আসা পণ্য কম দামে বিক্রি হওয়ায় বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে। যেকোনো অবৈধ পণ্য পরিবহন বা মজুতের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ফলে বেশ কয়েকটি বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার এই অভিযানও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়; এর সঙ্গে অনেক সময় মাদক, মানবপাচার ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রেরও সম্পর্ক থাকে। তাই এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
জব্দ হওয়া ভারতীয় শাড়ির চালান নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।