প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ। প্রথমবারের মতো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে এ মামলায় আজ রোববার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অনুমোদনক্রমে বিচার প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম শনিবার গণমাধ্যমে জানান, এই মামলায় শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় আদালত তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। অন্যদিকে মামলার তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। ফলে মামুন এখন সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন এবং তাঁর পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং ৪ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে। মামলার সাক্ষী তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা, একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ মোট ৮১ জন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুতে উসকানি, নির্দেশনা এবং সুপরিয়র কমান্ড হিসেবে দায়বদ্ধ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার কথিত নির্দেশনামূলক অডিও রেকর্ড ও অন্যান্য আলামত ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে প্রসিকিউশন গত বছর ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা অনুমোদন করে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় চলতি বছরের ১২ মে, যা আমলে নেয়া হয় ১ জুন। একইদিনে আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখে।
আজ রোববার, শেখ হাসিনা ও কামালের অনুপস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা একদিকে যেমন বাংলাদেশে আইনের শাসনের প্রতিফলন, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এটি নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এই বিচার প্রক্রিয়ার দিকে, যা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।