গাজায় ইসরাইলি হামলায় একদিনে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত, মানবিক সংকট চরমে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৩ বার
গাজায় ইসরাইলি হামলায় একদিনে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত, মানবিক সংকট চরমে

প্রকাশ: ১৪ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় আবারও রক্তে ভেসে উঠেছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। মাত্র একদিনে ইসরাইলি বিমান ও স্থল অভিযানে অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৬১ জন। বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলা উত্তর গাজায় সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় বোমা বর্ষণ ও গুলিতে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়েছে বহু বাড়িঘর, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা লোকজনের ওপর হামলাতেই প্রাণ গেছে ডজনখানেক মানুষের। গাজা সিটির উত্তরে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করছিলেন যারা, তাদের ওপর বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, রাফাহর উত্তরে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আবার গাজার জরুরি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তরাঞ্চলে খাদ্যের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর গুলিতে ১৪ জন নিহত এবং আরও ১১৩ জন আহত হয়েছেন। ফলে শুধু খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া মানুষের মধ্যেই একদিনে ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

মানবিক বিপর্যয়ও ক্রমশ গভীর হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুসহ আরও আটজন মারা গেছেন। এতে উপত্যকায় দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে, যার মধ্যে ১০৬ জনই শিশু। চিকিৎসা ও ত্রাণ সরবরাহের চরম সংকট, পানির অভাব এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে লাখো মানুষের জীবন এখন মৃত্যুর মুখে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ওই দিন থেকেই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। টানা ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী অভিযান শেষে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল।

কিন্তু দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই, গত ১৮ মার্চ, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আবারও গাজায় হামলা শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত। এদিকে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি ইসরাইল এখন কূটনৈতিক ও আইনি চাপের মধ্যেও রয়েছে।

দীর্ঘদিনের অবরোধ, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্ভিক্ষ ও আন্তর্জাতিক নিন্দার মধ্যেও গাজায় হামলার গতি কমছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, এবং মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে সব রেকর্ড।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত