প্রকাশ: ১৪ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অনুষ্ঠিত সাক্ষ্যগ্রহণে এক মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরেছে শহীদ ইয়াকুবের মা, রহিমা আক্তার। গত ৫ আগস্ট তার অবিভাবককে হারিয়ে শোকের তাড়া কাটিয়ে উঠতে না পেরে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একমাত্র সন্তানের জীবনযুদ্ধের জন্য। তার আবেগঘন বক্তব্যে শোনা যায়, “আমার ছেলের লাশ গাড়িতে করে গলিতে নিয়ে আসা হয়; পেটে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেছে, ভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে, রক্তছাড়া থামছিল না।” এই দৃশ্য তিনি নিজের চোখে দেখেছেন, যা তাকে মানবিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
একই ট্রাইব্যুনালে শহীদ ইসমামুল হকের ভাই, মহিবুল হক, ভাইয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে বলছিলেন, “চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করেননি; সন্ধ্যায় আমাদের লাশ নিয়ে ঢাকার বাড়ি থেকে ছেড়ে দেন, রাত ২টায় চট্টগ্রামে পৌঁছেছি। পরদিন জানাজা শেষে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করি।” তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি দায়ীদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এবং আইজিপি, ডিএমপি কর্তারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বক্তব্য, “সকল নির্দেশদাতা এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ট্রাইব্যুনালে আরও তিন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে; এর ফলে মামলায় মোট ছয়জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে চারজন গ্রেফতার এবং চারজন পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের হাজির করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, প্রধান আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে গত জুলাই মাসে bn.thereport.liveIndependent TelevisionBSS।
এই মামলা বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।