গ্রিভসকে ফিরিয়ে বিরতির আগে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ বার
গ্রিভসকে ফিরিয়ে বিরতির আগে স্বস্তিতে বাংলাদেশ
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে স্বস্তি ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে জাস্টিন গ্রিভসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। এতে ভাঙে রোস্টন চেজের সঙ্গে তাঁর ৫১ রানের জুটি। বিরতিতে যাওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৫ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৩ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ৫৯ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।

দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। আগের দিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনেও উইকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন তাঁরা। বিশেষ করে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস এগিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তখন প্রয়োজন ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের অগ্রযাত্রা থামানো।

দিনের শুরুতে ফিফটি পূর্ণ করেন চন্দরপল। তাঁর ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার ছাপ ছিল। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। চন্দরপলের বিদায়ে স্বস্তি ফিরে এলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপদ তখনো কাটেনি। কারণ, ক্রিজে থাকা অন্য ব্যাটাররাও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করছিলেন।

চন্দরপলের পর ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জাস্টিন গ্রিভস। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এই জুটি বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, উইকেট পড়ার পর নতুন ব্যাটারকে দ্রুত চাপে ফেলার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, চেজ ও গ্রিভসের জুটি সেটি অনেকটাই নষ্ট করে দিচ্ছিল।

টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষের বোলারদের ক্লান্ত করে তোলার কৌশল বেশ কার্যকর। চেজ ও গ্রিভসও সেই পথেই এগোচ্ছিলেন। একদিকে গ্রিভস রান বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে অধিনায়ক চেজ উইকেটে টিকে থেকে ইনিংসকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের জুটি যত দীর্ঘ হচ্ছিল, বাংলাদেশের জন্য প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা ততটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে বল হাতে দায়িত্ব নেন নাঈম হাসান। গ্রিভসকে ৪৬ রানে ফিরিয়ে তিনি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটার। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের বলেই তাঁর বিদায় ঘটে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নেওয়ার আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছে স্বাগতিকদের সামনে।

তবে বিরতির আগে আরও একটি উইকেট পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের বলে রোস্টন চেজের একটি সহজ ক্যাচ শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা মুমিনুল হকের হাতে এসেছিল। কিন্তু সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি তিনি। ফলে ব্যক্তিগত ৩০ রানে অপরাজিত থেকে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ক্যাচটি ধরা গেলে বিরতির আগে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারত। টেস্ট ক্রিকেটে এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার প্রভাব অনেক সময় ম্যাচের গতিপথেও পড়ে। তাই বিরতির পর চেজকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের বোলারদের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে থাকবে।

মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২১৩ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে তারা পিছিয়ে রয়েছে ৫৯ রানে। অর্থাৎ এখনো প্রথম ইনিংসে সমতা আনতে হলে সফরকারীদের আরও রান করতে হবে। তাদের হাতে রয়েছে চারটি উইকেট। চেজের সঙ্গে নতুন ব্যাটার ক্রিজে যোগ দেবেন বিরতির পর। এই অবস্থায় বাংলাদেশের বোলারদের জন্য প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া। প্রতিপক্ষকে যত কম রানে আটকে রাখা যাবে, প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। বিশেষ করে চেজকে দ্রুত আউট করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডারের ওপর চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে চেজ যদি নতুন ব্যাটারের সঙ্গে জুটি গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে সফরকারীরা বাংলাদেশের লিড কমিয়ে ফেলতে পারে কিংবা ইনিংসে এগিয়েও যেতে পারে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ২৭২ রান। ব্যাট হাতে স্বাগতিকদের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শাদমান ইসলাম, যিনি শতকের দেখা পেয়েছেন। তাঁর ১০৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। এ ছাড়া তাওহিদ হৃদয়ের ৪২ রানও দলের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রথম ইনিংসে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে জোমেল ওয়ারিকান পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন।

সেই কারণে নিজেদের বোলিং ইনিংসে বাংলাদেশকে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বড় জুটি গড়ার সুযোগ দিলে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পরিকল্পনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। দিনের শুরুতে চন্দরপলকে ফিরিয়ে স্বাগতিকরা ভালো অবস্থান তৈরি করলেও গ্রিভস ও চেজের জুটি আবারও প্রতিপক্ষকে লড়াইয়ে ফেরায়। শেষ পর্যন্ত নাঈমের গুরুত্বপূর্ণ আঘাত বাংলাদেশকে নতুন করে সুযোগ এনে দিয়েছে।

মিরপুরের উইকেটে টেস্টের বাকি সময়েও স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নাঈম হাসানের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্য বোলারদেরও নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে চাপ ধরে রাখতে হবে। শরীফুল ইসলামের পেস আক্রমণ এবং স্পিনারদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াই এখন স্বাগতিকদের লক্ষ্য। তবে চেজের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রিজে থাকায় কাজটি সহজ হবে না।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগমুহূর্তে পাওয়া উইকেট বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে হলে বিরতির পরও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে থাকা চার উইকেট কত দ্রুত তুলে নিতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে হলে বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদেরও প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। মুমিনুলের হাতছাড়া হওয়া ক্যাচের মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারলে মিরপুরে বাংলাদেশের সামনে আরও ভালো অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com