ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন মামুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন মামুন

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও দমন-নীতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ জবানবন্দি দেবেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হওয়া এই সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তার জবানবন্দি প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ তিনি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা এবং সরকারের নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং সর্বশেষ পুলিশ মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। মোট ২২ মাস তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে দুইবার ছিলেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে জানান, সরকারের পতনের পর তিনি সেনানিবাসে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অবগত ছিলেন। আন্দোলন দমন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, ব্যাপক প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহে তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলেও স্বীকার করেন। তবে ব্যক্তিগত বিবেকের তাড়না এবং জনগণের আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আদালতে সব কিছু স্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার বক্তব্যে উঠে আসে আন্দোলন দমনের সময় রাজনৈতিকভাবে গৃহীত নানা সিদ্ধান্তের কথা। তিনি দাবি করেন, মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া এবং ব্লক রেইডের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক নির্দেশনায়। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। চৌধুরী মামুনের দাবি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রায় প্রতিরাতে তার বাসায় বৈঠকের আয়োজন করতেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকতেন। ওই বৈঠকগুলোতেই আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করা হতো।

এই রাজসাক্ষ্য আদালতের কার্যক্রমে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামুনের দেওয়া তথ্য শুধু আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা নয়, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করবে। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই জবানবন্দিকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত