শিবিরের বিরুদ্ধে  অভিযোগ তুললেন ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
শিবিরের বিরুদ্ধে  অভিযোগ তুললেন ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই উঠেছে নতুন অভিযোগ। ভিপি পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেছেন, ভোট কেন্দ্রের বাইরে থেকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের একটি তালিকা বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নামও আরেকটি আলাদা তালিকায় দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে উমামা ফাতেমা বিষয়টি প্রকাশ করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি দুটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন, যেখানে দেখা যায়—একটি তালিকায় ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের প্রার্থীদের নাম এবং অন্যটিতে হল সংসদের প্রার্থীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উমামার দাবি অনুযায়ী, উভয় তালিকাই ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এগুলো ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, এ তালিকার একটি প্রান্তে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীদের নাম রয়েছে এবং অপর প্রান্তে স্বতন্ত্র পরিচয়ে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নাম।

তার অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন তিনি উল্লেখ করেন যে গুঞ্জন রয়েছে, এ ধরনের লিফলেট এমনকি পোলিং বুথের ডেস্কের নিচেও ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হলেও তার পোস্টের পর তা নিয়ে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে।

শুধু একটি কেন্দ্র নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কেন্দ্র থেকেও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন উমামা ফাতেমা। তিনি গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এভাবে যদি ভোটারদের হাতে প্রার্থীর তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ভোটগ্রহণের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রশাসনের উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

ডাকসু নির্বাচন সবসময়ই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। এমন প্রেক্ষাপটে শিবিরের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। যদিও ছাত্রশিবির আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের তথ্য-প্রমাণ যদি সত্য হয়, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভোটগ্রহণ শেষ হলেও অভিযোগ-প্রতিবাদ এবং পাল্টা বক্তব্যে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলাফল ঘোষণার আগে এই ধরনের ইস্যু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন নজর সবার—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই অভিযোগের তদন্তে এগিয়ে আসে কিনা এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত