প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রতীক্ষিত ৩৮তম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উৎসবমুখর, যা সারাদিনজুড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে এক বিশেষ আমেজ সৃষ্টি করে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনার কাজ, আর সেই ফলাফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ রাত ১২টার আগেই শিক্ষার্থীরা জেনে যাবেন কারা হতে যাচ্ছেন ডাকসু ও হল সংসদের নতুন নেতৃত্ব। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিকভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবারের নির্বাচনে, যা সাম্প্রতিক অতীতের তুলনায় অভূতপূর্ব।
বিভিন্ন হলের প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯৬৩ জন, যার মধ্যে ১৬৫৮ জন ভোট প্রদান করেছেন। উপস্থিতির হার সেখানে দাঁড়িয়েছে ৮৩.৪৩ শতাংশ। এস এম হলে ৬৬৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৫২ জন ভোট দেন, যা ৮২.৯৩ শতাংশ। জগন্নাথ হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ২২২২ জন, এর মধ্যে ১৮৩১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, অংশগ্রহণের হার ৮২.৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে রোকেয়া হলে মোট ৫৬৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ৩৯০৭ জন ভোট দিয়েছেন, যা প্রায় ৬৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রোকেয়া হলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন, যদিও সেখানে উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন বড় কোনো সংঘাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে এখন শিক্ষার্থী মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। কারণ ডাকসুর নেতৃত্ব শুধু ক্যাম্পাস রাজনীতিকেই প্রভাবিত করে না, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। রাত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতর ও বাইরে উৎসুক দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার দিকে। সবাই অপেক্ষা করছে, কে বা কারা হতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নতুন মুখপাত্র ও প্রতিনিধিরা।