প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বুধবার বেলা ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি এ বার্তা দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হওয়াদের অভিনন্দন জানান, যা গণতন্ত্রের রীতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনে কিছু ত্রুটি ও বিচ্যুতি থাকার বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যাত্রা দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় কিছু ভুল বা ত্রুটি স্বাভাবিক।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সংবাদ মাধ্যমে যেসব প্যানেল বিজয়ী হয়েছে এবং যাদের শিবিরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি। তিনি এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ছাত্রশিবিরের নামে বা ব্যানারে কোনো প্যানেল প্রদানের ঘটনা সত্য কি না।
ডাকসুর ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডাকসুতে নির্বাচিত অনেক নেতা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, কেউ সংসদে পৌঁছেছেন, কেউ এখনও সংগ্রাম করছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নাম উল্লেখ করা ঠিক হবে না, তবে সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান ও পুনরুত্থান রোধ করতে, সংসদীয় একনায়কতন্ত্র বা একদলীয় শাসন এড়াতে নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো রাজনৈতিক স্থাপনার মধ্য দিয়ে অপরাজনীতির বিলুপ্তি সম্ভব। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকুক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সবাইকে অভিনন্দন জানানোই হবে রীতি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাঙ্গনকে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির চর্চা অব্যাহত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলা যায় না, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব উঠে আসে।
আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয়তাবাদী মহিলা নেতাদের আরও সুগঠিত হয়ে কাজ করার এবং আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠিত হলে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নারী প্রার্থী বৃদ্ধির বিধান আনবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। সভায় ঢাকা মহানগর ও জেলা পর্যায়ের মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।