জাহাঙ্গীরনগরে জাকসু ভোটে ধীর সূচনা, বিরক্ত ভোটাররা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার
জাহাঙ্গীরনগরে জাকসু ভোটে ধীর সূচনা, বিরক্ত ভোটাররা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ ৩২ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রত্যাশিত উৎসাহের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মীর মশাররফ হোসেন হলে প্রথম ভোট পড়তে সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট। এ দেরিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও বিরক্তি ছড়িয়ে পড়ে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে হলে ব্যালট পেপার এসে পৌঁছালেও ভোট শুরুর প্রস্তুতি নিতে বিলম্ব হয়। বিশেষ করে দুটি ব্যালট পেপার পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যায়। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর অবশেষে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই হলে মোট ৪৬৪ জন ভোটার থাকলেও শুরুতেই দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। ভোটগ্রহণের জন্য হলে রাখা হয়েছে ১০টি বুথ।

দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথম ভোট দেন ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ভিপি প্রার্থী জুবায়ের আল শাবাব। ভোট শেষে তিনি প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে। এ সময় উপস্থিত ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন পর বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে এমন অনিয়ম বা বিলম্ব ভোটারদের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহমুদুর রহমান বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “ব্যালট পেপার দেরিতে আসায় এবং দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় সব কিছু গোছাতে সময় লেগেছে। তবে ধীরে ধীরে পুরো প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চালু হয়ে যাবে।”

প্রথম ভোটারদের পরপরই ভোট দেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ মো. সাদি হাসান ভোট প্রদান শেষে বলেন, “গতকাল রাত থেকে ক্যাম্পাসে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।” তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ।

এদিকে একই কেন্দ্রে ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিবের ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এ ভোট যদি অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে দিনের শুরুতেই ভোটগ্রহণে যে ধীরগতি ও জটিলতা দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শিক্ষার্থী মহলে।

বহুল আলোচিত এই জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ও প্রত্যাশার পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ভোটের সূচনায় এমন বিলম্ব ও বিশৃঙ্খল প্রস্তুতি অনেকের মধ্যেই শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে—সত্যিই কি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে শেষ করা সম্ভব হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে দিনের শেষে ভোটগ্রহণ শেষ হলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত