সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদলকে জয়ী করবে: ভিপি প্রার্থী সাদী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদলকে জয়ী করবে: ভিপি প্রার্থী সাদী

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ ৩২ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা, প্রত্যাশা ও উদ্বেগে টানটান অবস্থা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে শুরুতেই নানা অভিযোগ ও অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান অভিযোগ করেছেন যে, নির্দিষ্ট একটি ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন করা হচ্ছে। তবুও তিনি আশাবাদী যে, সব ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরাই শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলকে বিজয়ী করবে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসেন শেখ সাদী। ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “গতকাল রাত থেকে যেসব আয়োজন করা হয়েছে, সেগুলো ভোট ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট। প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরাই নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং আমি বিশ্বাস করি, তারা ছাত্রদলকেই জয়যুক্ত করবে।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ভোট প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা থাকা সত্ত্বেও শঙ্কা রয়ে গেছে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।

এবারের জাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। নির্বাচনী লড়াইয়ে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত মোট আটটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি এবং ছাত্রীদের ১০টি হল মিলে মোট ২১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ২২৪টি বুথ।

ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এবার মোট ১১ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ছাত্রদের মধ্যে আল বেরুনী হলে ২১০ জন, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে ৩৩৩ জন, মীর মশাররফ হোসেন হলে ৪৬৪ জন, শহীদ সালাম-বরকত হলে ২৯৮ জন, মওলানা ভাসানী হলে ৫১৪ জন, ১০ নম্বর ছাত্র হলে ৫২২ জন, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫০ জন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ৩৫০ জন, ২১ নম্বর ছাত্র হলে ৭৩৫ জন, জাতীয় কবি নজরুল হলে ৯৯২ জন এবং তাজউদ্দীন আহমদ হলে ৯৪৭ জন ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের হলে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ২৭৯ জন, জাহানারা ইমাম হলে ৩৬৭ জন, প্রীতিলতা হলে ৩৯৬ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৪০৩ জন, সুফিয়া কামাল হলে ৪৫৬ জন, ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে ৫১৯ জন, ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ৫৭১ জন, রোকেয়া হলে ৯৫৬ জন, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৭৯৮ জন এবং তারামন বিবি হলে ৯৮৩ জন ভোট দেবেন।

শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যাম্পাসজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, সাত প্লাটুন বিজিবি ও পাঁচ প্লাটুন আনসার। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসের ভেতর ও বাইরে তাদের অবস্থান কড়া নিরাপত্তা বলয়ের ইঙ্গিত দেয়।

জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, জাকসু নির্বাচন শুধু একটি ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও তাদের মতপ্রকাশ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পুনর্জীবিত করবে। তবে দিনের শুরুতেই প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে—সে প্রশ্নই এখন সবার মনে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সব বিতর্ক ও বাধা সত্ত্বেও তারা যেন নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন এবং জাকসু নির্বাচন প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত