জাকসুর ভোটগ্রহণ শেষ, এখন সবার দৃষ্টি ফলাফলের দিকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
জাকসুর ভোটগ্রহণ শেষ, এখন সবার দৃষ্টি ফলাফলের দিকে

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। সারাদিনব্যাপী ব্যস্ততা, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। তবে ভোট শেষ হতেই এখন সবার দৃষ্টি ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে মোট ১১ হাজার ৯১৯ জন ভোটারের জন্য ব্যবস্থা করা হয় কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ১০২ জন এবং ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৮১৭ জন। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ১৭৯ জন প্রার্থী। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হল ও ১০টি ছাত্রী হলে মোট ৩১৫টি পদে লড়েছেন ৪৬৭ জন প্রার্থী।

নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন, হলগুলোর সামনে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। তবে ভোট চলাকালীন সময়ে কয়েকটি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয় নানা অভিযোগের কারণে। এর মধ্যে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেল একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এমনকি ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স নেওয়া এবং ভোট চলাকালীন সময়ে একজনকে আটক করার ঘটনাও ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনায় আসে।

এই পরিস্থিতিতে দুপুর গড়ানোর আগেই ছাত্রদলের প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ অনিয়মে ভরপুর এবং শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সত্ত্বেও দিনভর ভোটের সার্বিক পরিবেশ ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে এখন অপেক্ষার প্রহর। সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ ফলাফলের দিকে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে আগামী দিনের ভারসাম্য রচনা করবে। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নির্বাচনে কে নেতৃত্বে আসবেন, কোন প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার পরই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন। তাই ভোট শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আগ্রহ রয়ে গেছে চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতীক্ষায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত