রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি: ক্যাম্পাস ফাঁকা, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি: ক্যাম্পাস ফাঁকা, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসে আজও বিরামহীন কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে পোষ্য কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকালের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সোমবার সকাল নয়টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসের আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। প্রশাসন ভবনের সামনে ও পাশের এলাকায় চেয়ার পেতে বসে কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণকারীরা। প্রশাসনিক ভবনের দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলানো হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ প্রশাসনিক সেবা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, তারা এই কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে বসে তারা শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটা নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি ক্যাম্পাসের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্য, এমনকি ক্যাম্পাসের খাবার ও চায়ের দোকানগুলোও বন্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কর্মবিরতির কারণে বিশেষভাবে সতর্ক। ক্যাম্পাসে সাধারণত সকালের সময় শিক্ষার্থীদের চলাচল ও গ্রীন অঞ্চলের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু আজ এই ব্যস্ততা অনুপস্থিত। বাস চললেও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নেহায়েত কম। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রশাসনের প্রতি এই চাপ প্রয়োগ করছেন যাতে পোষ্য কোটা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীবিষয়ক নীতিমালা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়।

এক শিক্ষক জানান, “আমরা আমাদের কর্মবিরতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, তা প্রশাসনকে যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে।” অন্যদিকে, এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবির দিকে প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ করা। আমরা কোনোরূপ সহিংসতা করতে চাই না, তবে আমাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।”

কর্মবিরতি চলাকালীন ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কার্যক্রমের অবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির। অফিসসমূহে কোনো নথিপত্র চলাচল হচ্ছে না, আর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কোষাগার ও রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীরাও তালাবদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা কর্মবিরতি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিনিয়ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। প্রশাসন ভবনের আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের জন্যও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্মবিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা কমিয়ে দিয়েছে। সাধারণত সকাল-বিকেলের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু আজ তারা প্রায় অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীরা মূলত চুপচাপ বসে বা বাইরে অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠগুলোও খালি এবং কোচিং বা শিক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীতি ও কোটা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি চাপ সৃষ্টিতে কার্যকর। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমিতি ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্মবিরতির ফলে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে। স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের আওয়াজ নেই, ক্লাসরুম খালি, লাইব্রেরি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লক্ষ্য একটাই—শৃঙ্খলা ফেরানো এবং শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটা বিষয়ে প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা ও সমাধান আদায় করা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টি আলোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে একটি সমাধানমূলক প্রস্তাবনা তৈরি করবে। তবে কমিটির রিপোর্ট ও প্রস্তাবনা কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি চলতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উল্লেখ করেছেন, তারা চাই যে প্রশাসন ও শিক্ষক-কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সমাধান করুন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “আমরা চাই আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল হোক এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।” তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ সচেতন করতে সহায়ক বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ক্লাস ও পরীক্ষার কার্যক্রম স্থবির হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি, প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও নীতি বাস্তবায়নের জন্য এই কর্মসূচি অপরিহার্য।

আজকের কর্মবিরতি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ হলেও শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা অনুভূত হচ্ছে। প্রশাসন ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বাইরের আগত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা মূলত ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন, এতে ক্যাম্পাসের সাধারণ পরিবেশ ফাঁকা ও স্থবির দেখাচ্ছে।

মোটের ওপর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে লাগাতার কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটা বিষয়ে প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবির প্রতি সমর্থন এবং ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রশাসন ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি ও সম্ভাব্য উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।

এই কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী এটি ক্যাম্পাসের দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নে একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত