নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারজিস আলম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৮ বার
মানবতার আহ্বানে মিশরের পথে এনসিপি নেতা সারজিস আলম

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক ,একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীক বরাদ্দ সবসময়ই দলগুলোর জন্য সংবেদনশীল একটি ইস্যু। এবারও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার বিকালে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্কে মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “যেসব প্রতীক মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়ায়, যেমন মুলা, বেগুন, খাট বা থালাবাটি—এসব নির্বাচন কমিশনের তালিকায় কেন থাকবে? এটি তাদের রুচিবোধের অভাবকেই প্রকাশ করে। দেশে কি প্রতীকের অভাব পড়েছে? আমাদের কেন তাদেরকে বলতে হবে কোন প্রতীক গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়?” তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতীক নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের উচিত মর্যাদা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা।

সারজিস আলম মনে করেন, এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারিতার পরিচায়ক। তার দাবি, নির্বাচন কমিশন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এবং কারো প্রভাবে এমন আচরণ করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এনসিপি শাপলা প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু মেনে নেবে না। তাদের প্রস্তাবিত বিকল্প ছিল সাদা শাপলা ও লাল শাপলা। প্রয়োজনে শাপলার সঙ্গে অন্য কোনো প্রতীক যুক্ত করা হলে তারা আপত্তি করবে না। তবে শাপলাই তাদের চূড়ান্ত প্রতীক বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশের সীমান্ত ও পানিবণ্টন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভারত হঠাৎ করে মহানন্দা নদীর উজানে তাদের নয়টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় বাংলাবান্ধার একটি গ্রাম ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনের কারণে মানুষের বসতভিটা হুমকির মুখে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তার মতে, নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে একতরফা পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

তিনি বলেন, “ভারত যদি ইচ্ছেমতো স্লুইসগেট খোলে বা বন্ধ করে, তবে বাংলাদেশে অ্যান্টি-ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট আরও বাড়বে। এটি দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ভারতকে বুঝতে হবে, সব দিন ভারতের দিন নয়, বাংলাদেশের দিনও আসবে।”

সারজিস আলম এ সময় ভারতের প্রতিবেশী নেপাল ও চীনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অনেক নদীর উৎপত্তি এসব দেশে। তারা যদি একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় তবে ভারতও সমস্যায় পড়বে। তাই ভারতের উচিত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণ করা এবং বাংলাদেশকে সমতার চোখে দেখা।

এ আলোচনার ধারাবাহিকতায় তিনি শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার দাবি, “ভারত যতদিন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে না দেয়, ততদিন তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রত্যাশিত সেন্টিমেন্ট পাবে না।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক রাজনৈতিক মাত্রা ছাড়িয়ে মানুষের অনুভূতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

এর আগে বাংলাবান্ধার মহানন্দা নদীর পাড়ে বাঁধ দেওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাধা দিয়েছিল এবং এমনকি গুলি ছুড়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশের নদীর পাড়ে আমরা ব্লক বসাব আর বিএসএফ গুলি করবে—এই সাহস তারা আবার দেখালে বিজিবি ও বাংলাদেশের মানুষ যথাযথ জবাব দেবে।” তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবেশ উপদেষ্টা এবং স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সারজিস আলম জেলার পাঁচ উপজেলার ১২০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বরাদ্দ আনার ঘোষণা দেন। পরে গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে এনসিপি পঞ্চগড় সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক নয়ন তানবীরুল বারীসহ এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সারজিস আলমের বক্তব্য একইসঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, প্রতীক বণ্টন ব্যবস্থা এবং সীমান্ত ইস্যুতে জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভকে তুলে ধরেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতীক বণ্টন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা নতুন কিছু নয়, তবে তা যখন সরাসরি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত হয় তখন তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে, পানিবণ্টন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু বহু বছর ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এই দুই প্রসঙ্গকে একসঙ্গে সামনে আনা রাজনৈতিক বক্তব্যকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন কি আসলেই প্রতীকের তালিকা সংস্কার করবে? প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সংবেদনশীল অবস্থান নির্বাচনকে ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি করবে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়। একইসঙ্গে, ভারতের পানিবণ্টন নীতি এবং সীমান্তে বিএসএফের আচরণ কি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।

তবে আপাতত বলা যায়, সারজিস আলমের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছুঁয়ে গেছে জাতীয় স্বার্থ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের জটিলতাকেও। বাংলাদেশের সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে কূটনীতিক মহল—সবাই এ ধরনের মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে ভাববে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত