তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ ঢাকা আসছেন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ ঢাকা আসছেন

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আজ সোমবার তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচি ঢাকায় পৌঁছেছেন। তার সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক, যাকে ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসি বলা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। দুই দেশের এফওসি বৈঠক ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপ ও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা-আঙ্কারার সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এটি গত ২০১৯ সালের পর তৃতীয় এফওসি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত প্রতিরক্ষা খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

একিনচি বৈঠকের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহম্মদ ফাওজুল কবীর খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব নজরুল ইসলাম জানান, উভয় দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি, ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ সমরাস্ত্র তৈরির উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে সমঝোতার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর আঙ্কারা ঢাকার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর তুরস্কের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও অংশীদারিত্ব দৃঢ় হয়েছে।

তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে তুরস্কে আটকে পড়া বাংলাদেশির সমস্যা এখনো অমীমাংসিত। দুই দেশের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করে সমস্যার সমাধান করার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি তুরস্ক চাইছে তাদের শিক্ষা ও সামাজিক প্রকল্পগুলোর কিছু ব্যবস্থাপনা স্থানীয় অংশীদারদের হাতে তুলে দিতে।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল বৈঠক করেছে, যেখানে অর্থ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও অবকাঠামোর প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। বৈঠকের কাঠামো ও আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে এফওসি বৈঠকের পর দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। এফওসি বৈঠকের ফলাফলকে দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনীতিকরা আশা করছেন, বৈঠকের পরে যৌথ ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে, যা ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

আজকের সফর কেবল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাপকাঠি নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে, স্বচ্ছ ও বাস্তব ভিত্তিক সংলাপ এ সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই করে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত