খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের আস্তানায় সেনা অভিযান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার
নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সেনাবাহিনী নিয়ে চলেছে বিতর্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলায় ইউপিডিএফের (উপজাতি পরিষদের উদার ফ্রন্ট) গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে এবং সেখানে বিস্তর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে পানছড়ি উপজেলার যুবনেশ্বর পাড়া এলাকার গভীর জঙ্গলে একটি অভিযান চালানো হয়, যেখানে ইউপিডিএফের একটি গোপন ঘাঁটি ঘিরে তল্লাশি করা হয়।

অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফের শীর্ষ স্থানীয় গ্রুপ কমান্ডার সুমেন চাকমা পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী স্থানটি ঘেঁটে অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিদপ্তরের বিবরণ অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড এমোনিশন, ১৫টি ব্যানার, দুইটি ওয়াকিটকি চার্জার, দুটি মোবাইল ফোন, ধারালো অস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। এটি প্রমাণ করে যে ইউপিডিএফ সশস্ত্র ও সুসংগঠিতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অভিযান চলাকালে ইউপিডিএফ স্থানীয় নারী-পুরুষ, ছাত্র ও ছাত্রীদেরকে সেনাবিরোধী স্লোগান দিতে বাধ্য করেছিল, যা তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিসর তুলে ধরে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সাধারণ জনগণ, বিশেষত কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইউপিডিএফ এবং তার অঙ্গসংগঠনসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন পন্থায় এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রাখে। বিশেষত স্কুলগামী শিশুরা এবং স্থানীয় নারী-পুরুষরা তাদের এই কার্যক্রমের শিকার হচ্ছে।

সেনাবাহিনী এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পালিয়ে যাওয়া ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রাখছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রমে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই অভিযানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রম রুখে দেওয়া সম্ভব হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে জঙ্গলে গোপন ঘাঁটি তৈরি করে আসছিল। এ ধরনের ঘাঁটি সাধারণত সশস্ত্র কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই ঘটনায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকাবাসী সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা তৎপরতায় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, পালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র সদস্যরা নতুনভাবে সশস্ত্র কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বিদ্যমান। স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি স্থাপনে সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইউপিডিএফের মতো সংগঠনগুলো সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেষ্টা করে থাকে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ইউপিডিএফের সকল কার্যক্রম নজরদারি করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তাদের অস্ত্রাগার ধ্বংস করছে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় জনগণকে কোনও ধরনের ক্ষতি না করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

বৃহৎ পরিসরে এই অভিযান একটি বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি এটি ইউপিডিএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে, যাতে তারা সশস্ত্র কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।

সেনাবাহিনী এই অভিযান সম্পর্কে আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জঙ্গলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করবে। এ ধরনের অভিযান অঞ্চলটিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অপরাধমূলক কার্যক্রম রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপসংহারে বলা যায়, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের গোপন আস্তানায় অভিযান এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত