জনগণই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু: বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনায় তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৮ বার
জনগণই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু: বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনায় তারেক রহমান

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত নাম তারেক রহমান। দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলীয় পুনর্গঠন, রাজনৈতিক আদর্শ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, দলীয় জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্রের বুনিয়াদ নিয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ইতিহাসের এক পর্যায়ে দেশে যখন সকল দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন বিএনপিই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। “আমরা দেখেছি, বিএনপির কাঁধে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে, তখনই বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা পুনরায় চালু করা হয়,” তিনি উল্লেখ করেন।

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথরেখা আঁকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “হ্যাঁ, অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা অতীতে ভালো কাজগুলো করেছি। ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই এগিয়ে যাব।” তিনি জানান, তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হবে ভবিষ্যৎ বিএনপির রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করা, যাতে গণতন্ত্রের ভিত্তি হয় দৃঢ় এবং জনগণের প্রতি দলের দায়িত্ববোধ হয় আরও গভীর।

তিনি বলেন, “আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে ভবিষ্যৎ বিএনপির গণতন্ত্রের বুনিয়াদকে শক্তিশালী করা এবং দলের ভেতরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। কারণ একটি দলের ভিতরে জবাবদিহিতা না থাকলে তা জনগণের আস্থাও হারায়।”

রাজনীতিতে অভিযোগ ও জবাবদিহিতা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “অভিযোগ থাকতেই পারে। একটি বিষয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকম মত থাকতে পারে, কেউ হয়তো অভিযোগ করবেন। কিন্তু অভিযোগ শুনলেই সেটি ভুল ধরে নিলে চলবে না। আমরা অভিযোগগুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখব, বিশ্লেষণ করব এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা নেব।” তিনি বলেন, তাঁর কাছে রাজনীতি মানে অভিযোগের জবাব নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের নিরন্তর চেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, “আমি যা দেখেছি, শিখেছি, বুঝেছি, অভিজ্ঞতা থেকে আমি সেটিই বলি—অভিযোগ থাকবে, কিন্তু তার মধ্যে থেকেও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। আমি যদি সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে প্রমাণ করতে পারব যে পরিবর্তন সম্ভব।”

তারেক রহমান স্বীকার করেন, পরিবর্তনের পথ কখনো সহজ নয়। তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো—আমি সুযোগ পেলে সেটা একদিনে সম্ভব হবে না। কারণ পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ দরকার। আমি একা নই; জনগণই দেশ গঠনের প্রধান অংশ। আপনাদের মতো কোটি মানুষের বোঝাপড়া ও সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

তিনি আশাবাদী সুরে বলেন, “হ্যাঁ, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন আমাদের নেতৃত্ব ও রাজনীতি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে। আমরা বিশ্বাস করি, কঠিন সময়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায় যদি মন থেকে চাওয়া যায়।”

নেতৃত্বের পরিবর্তন ও তাঁর দীর্ঘ প্রবাসজীবন নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর আমি প্রবাসে আছি। এই সময়টা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। বাংলাদেশ থেকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা টাইম ডিফারেন্স, দূরত্বের বাধা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি কঠিন দায়িত্ব। তবে আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবার—আমার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি। তাদের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এই কঠিন দায়িত্ব পালন করা আরও কঠিন হতো।”

একই সঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “আমি আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার হাজারো নেতাকর্মীকে, যারা প্রতিকূল সময়েও দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, সংগঠিত করেছেন এবং জনগণের দাবির পক্ষে রাজপথে থেকেছেন। তাঁরা শত বাধা-বিপত্তি, মামলা-হামলার মাঝেও বিএনপির পতাকা উঁচু রেখেছেন,” বলেন তারেক রহমান।

তিনি মনে করেন, বিএনপির শক্তি শুধু নেতৃত্বে নয়, বরং তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যেই নিহিত। তাঁর ভাষায়, “বিএনপির ভিত্তি জনগণের মধ্যে। এই দলটি একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে লাখো কর্মীর ত্যাগ, কারাবাস, আন্দোলন এবং জনগণের ভালোবাসা।”

প্রবাসে থেকে রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। “আপনি জানতে চেয়েছেন, এখান (যুক্তরাজ্য) থেকে আমি কী শিখেছি—আমি বলব, এই দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, এবং নেতৃত্বের জবাবদিহিতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি মনে করি, একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো—দেশের জন্য যা ভালো, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যে থেকে আমি বুঝেছি, রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে, কীভাবে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি চেষ্টা করব সেসব ইতিবাচক দিক আমাদের রাজনীতিতে প্রয়োগ করতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে এক নতুন ধারণা দেয়। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি এসেছে পরিমিত ও সময়োপযোগী ভাষায়।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের “জবাবদিহিতা” ও “গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি” গড়ে তোলার অঙ্গীকার বিএনপির রাজনীতিতে একটি নতুন চিন্তার জন্ম দিতে পারে। এতে স্পষ্ট যে তিনি কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনীতির সংস্কৃতিতেই পরিবর্তন আনতে চান।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে নীতি, সংগঠন ও নেতৃত্বে নতুন করে ভারসাম্য খুঁজছে, তার প্রতিফলনও দেখা যায় তারেক রহমানের কথায়। তিনি চান এমন একটি বিএনপি, যা কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং জনগণের সমস্যার সমাধান ও জাতীয় স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই জনগণের দল হতে—যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে দলের অংশ মনে করবে। আমাদের লক্ষ্য কেবল সরকার গঠন নয়, বরং এমন একটি বাংলাদেশ গড়া যেখানে ন্যায়, সমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়—বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ হবে জনগণকেন্দ্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ভিত্তিক তিনি চান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসুক মানুষ, তাদের প্রত্যাশা ও অধিকার।

শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যে যে সুরটি অনুরণিত হয় তা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতি পরিবর্তনের সময় এসেছে, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকতে হবে জনগণকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত