‘ নির্বাচন ও জনগণ’ বিএনপির সংযোগ, অনলাইন তৎপরতা এবং জনগনের ভাষা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৭ বার
যুক্তরাজ্য বিএনপিতে নতুন নেতৃত্বের দাবি, সামনে আসছে পুনর্গঠন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন সামাজিকমাধ্যম। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বিশেষভাবে সরব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি শুধু নিজেদের ইতিবাচক কার্যক্রম প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; পাশাপাশি ডিজিটাল জগতে চলা নেতিবাচক ও মিথ্যা প্রচারণার মোকাবিলাতেও পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে। দলের কৌশল নির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, নির্বাচনের এই সময়ে গণমাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো হবে জনগণের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই কৌশল স্পষ্টভাবে উঠে আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবের রহমাম শামীম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (মীর হেলাল), অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা।

বৈঠকে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, তারা যেন নিজ নিজ অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমে দলের কর্মকাণ্ড প্রচার ও প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের মোকাবিলায় সক্রিয় রাখেন। একইসঙ্গে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই বার্তা পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দলের মিডিয়া সেল।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দুই দশক পর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এবং বিদেশি প্রভাব মোকাবিলা নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। সেই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিভিন্ন শাখা ও অনলাইন টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কীভাবে ওই বক্তব্যগুলোর মূল বার্তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, বিশেষ করে টেলিভিশন টকশো, সংবাদপত্রের কলাম, ইউটিউব আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা মনে করেন, বর্তমানে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী সামাজিকমাধ্যমকে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে পাল্টা জবাব না দিলে বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হবে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা প্রচার ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। ইউটিউবে রয়েছে ৩৮ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার, যেখানে নিয়মিত লাইভ অনুষ্ঠান, বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও এবং রাজনৈতিক মন্তব্য সম্প্রচার করা হয়। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে অনুসারীর সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি। এছাড়া দলীয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’ পেজের ফলোয়ার ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং টেলিগ্রামেও উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত রয়েছে দলীয় প্রচারণা টিম।

মিডিয়া সেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন’—এই বয়ান ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় পেজগুলোতে অনুসারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলের প্রতি নতুন আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোও সাংগঠনিক বার্তা আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’কে বলেন, “আমরা ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রচার বাড়াতে চাই। পাশাপাশি যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের মোকাবিলায় আমাদের সংগঠন প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “সামাজিকমাধ্যম এখন এমন এক মঞ্চ, যেখানে জনগণের ভাবনা ও রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তাই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে এতে সম্পৃক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। প্রার্থীপদপ্রত্যাশী অনেক। কিন্তু সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যাকে প্রার্থী করা হবে, সবাই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে আমরা ঘরে ঘরে ৩১ দফা কর্মসূচি পৌঁছে দিচ্ছি, যা আগামী নির্বাচনে আমাদের মূল প্রচারণার অংশ।”

মীর হেলাল আরও যোগ করেন, “সামাজিকমাধ্যমে বিএনপির উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিকে আরও ফলপ্রসূ ও প্রভাবশালী করতে কাজ চলছে। মিডিয়া সেল দিনরাত কাজ করছে কীভাবে অনলাইনে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়।”

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

বিএনপির এই ডিজিটাল উদ্যোগ দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে । কারণ এখনকার ভোটারদের বড় অংশ তরুণ, যারা সামাজিকমাধ্যমেই তথ্য খোঁজে, মতামত দেয় এবং রাজনৈতিক মনোভাব গড়ে তোলে। ফলে বিএনপি যদি তাদের এই নতুন প্ল্যাটফর্মে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তবে নির্বাচনী মাঠে সেটি বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক যুদ্ধ এখন কেবল মাঠে যেমন জরুরি মানুষের মনের ভাষা তাদের চাওয়া ও জরুরি সেই সাথে বরং ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকের পর্দাতে কার্যক্রম ফুটিয়ে তোলা ও তারা জরুরি মনে করছে । গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লড়াইটি এখন পরিণত হয়েছে এক নতুন যুগের ডিজিটাল প্রতিযোগিতায়, যেখানে বার্তা, চিত্র ও প্রচারণাই নির্ধারণ করবে জনমতের রূপ ও গতিপথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত