প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হাসান ববি অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এ গ্রেপ্তারকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা ১২টি মামলার আসামি ছিলেন ববি। এই মামলাগুলোর অধিকাংশই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংগঠিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা হয়, যার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তার নাম উঠে আসে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকার গুলশানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, “ওবায়দুল হাসান ববি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গুলশানে অবস্থানের খবর পেয়ে আমাদের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালায় এবং তাকে কোনো প্রকার বিপত্তি ছাড়াই আটক করে।”
ডিবি সূত্র জানায়, ববি বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় অবস্থান পরিবর্তন করতেন যাতে পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে না পারে। তবে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের সহায়তায় অবশেষে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, ববি দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে তার নাম উঠে আসার পর থেকেই তিনি দলের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তারের পর এখন স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে—বিশেষত দলের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে পরবর্তী অবস্থান কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইকবাল বাহার আরও জানান, “গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে তাকে বগুড়া জেলা পুলিশের হেফাজতে আনা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
বগুড়া শহরে ববির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ‘ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, “ববি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।” তবে প্রশাসন জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে।
এই ঘটনায় বগুড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। কারণ, ওবায়দুল হাসান ববি ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠক, যিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতেন।গ্রেপ্তারের পর তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো তদন্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
একইসঙ্গে বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই গ্রেপ্তার কি শুধুই আইন প্রয়োগ, নাকি এটি রাজনৈতিক পুনর্গঠনের শুরু? সময়ই তার উত্তর দেবে।