প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ৪৪ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারো নেতৃত্ব দখল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটায় নির্বাচন কমিশন সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে, যেখানে ২৬টি পদে শিবির ২৪টিতে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে।
নির্বাচনে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শিবিরের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি এবং ইতিহাস বিভাগের এমফিলের শিক্ষার্থী। মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেনের ৪ হাজার ৩৭৪ ভোটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে জিএস পদে জয়লাভ করেছেন শিবির প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব। তিনি শাখা শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক এবং ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। জিএস পদে তার প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা ৮ হাজার ৩১, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাফায়াতের ২ হাজার ৭৩৪ ভোটের চেয়ে অনেক বেশি।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৮১ সালে চাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেল জয়লাভ করেছিল। ওই নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন জসিম উদ্দিন সরকার এবং জিএস পদে জয়লাভ করেন আবদুল গাফফার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ সালে প্রথম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভিপি নির্বাচিত হন এবং জিএস হন আবদুর রব। পরবর্তী নির্বাচনে ১৯৭২ সালে ছাত্র ইউনিয়নের শামসুজ্জামান হীরা ভিপি এবং জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না জিএস নির্বাচিত হন।
১৯৭৪ সালের তৃতীয় নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের এস এম ফজলুল হক ভিপি এবং গোলাম জিলানী চৌধুরী জিএস পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের চতুর্থ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী এবং জিএস হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের জমির চৌধুরী।
১৯৯০ সালের ষষ্ঠ চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী ছাত্রলীগের নাজিম উদ্দিন ভিপি নির্বাচিত হন এবং জিএস পদে জয়লাভ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ। এই ইতিহাসকে সামনে রেখে এবার ইসলামী ছাত্রশিবিরের পুনরায় বিজয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের প্রভাবকে দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনের এই ফলাফলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।