প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০৮ আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডের ফারইস্ট ইন্স্যুরেন্স টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই তালিকা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রাথমিকভাবে মনোনীত শতাধিক প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। ঘোষিত তালিকায় বেশিরভাগ প্রার্থীই তরুণ—এর পাশাপাশি রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যারিস্টার ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা। দলটির দাবি, এবারের নির্বাচনে তারা ‘নতুন রাজনীতি’র সূচনা করতে চায়, যেখানে নীতি ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বেশি।
দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আমার বাংলাদেশ পার্টির এই ঘোষণা শুধু একটি প্রার্থী তালিকা নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম নেতৃত্বে আসুক, রাজনীতি যেন পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আবারও জনগণের সেবায় ফিরে আসে।” তিনি আরও বলেন, “যদিও আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তবে দেশের মানুষ এখনো নির্বাচন নিয়ে সন্দেহে ভুগছে। সরকারের উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা, যাতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হয়।”
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “এবি পার্টি বিশ্বাস করে, যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে যেন জনগণ ভোটের প্রতি আস্থা ফিরে পায়।”
এসময় তিনি আরও জানান, দলের প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের প্রার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বয়স ৪৫ বছরের নিচে। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাই এবি পার্টির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “যুব সমাজই দেশের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। এবি পার্টি তাদের হাতে রাজনীতির দায়িত্ব দিতে চায়, যেন তারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারে।”
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “আমরা দলীয় মনোনয়নে কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন বা ক্ষমতার প্রভাব রাখিনি। আমাদের প্রার্থী নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”
প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে গঠিত প্রার্থী বাছাই কমিটি গত কয়েক মাস ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর মতামত ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পেশাগত রেকর্ড যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দলের কার্যনির্বাহী কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকে প্রথম পর্যায়ে ১০৮ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
দলটি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপে আরও কয়েক ডজন আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এবি পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে ভালো শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কাসেম, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বিএম নাজমুল হক, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল দিদারুল আলম ও লে. কর্নেল হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আলতাফ হোসাইন ও ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান প্রমুখ।
দলের নেতারা বলেন, এবি পার্টি এখনো তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি হলেও, তাদের লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে অংশ নেওয়া নয়—বরং জনগণের আস্থা অর্জন করে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। তাদের দাবি, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, এবি পার্টি জাতীয় রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিতে সক্ষম হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবি পার্টির তরুণ নেতৃত্বকেন্দ্রিক এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বার্তা দিচ্ছে। যেখানে দীর্ঘদিনের প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে, দলীয় চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতির ছক ভাঙতেই হবে। এবি পার্টি সেই পরিবর্তনের অংশ হতে চায়।”