প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাম গণতান্ত্রিক জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আগামী জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধানে বিদ্যমান চারটি মূলনীতি—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ—এবং সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের অন্তর্বর্তীকালীন বিধানের তফসিল পরিবর্তনে সম্মতি প্রদানে, বা আদালতে প্রশ্ন করা যাবে না এমন বিষয়ে অঙ্গীকার করার শর্তে তারা সনদে স্বাক্ষর করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন জোটের অন্যতম শরিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি, কারণ এতে সংবিধানের মূল নীতিগুলোর প্রতি অঙ্গীকারে বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে, যা আমাদের মতবাদ ও রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চাই, দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের মূল ভিত্তি রক্ষা করুক।”
বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠিত হয়েছে সিপিবি, বাসদ, বাসদ মার্কসবাদী এবং বাংলাদেশ জাসদকে কেন্দ্র করে। জোটের নেতারা মনে করেন, সংবিধানের চার মূলনীতির প্রতি অঙ্গীকারের শর্তে স্বাক্ষর দেওয়া হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে জনগণের প্রাপ্য সংবিধান ও অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। আমরা এর জন্য কখনোও সহযোগিতা করব না।”
জোটের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা এখন থেকে তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক নীতিগুলো রক্ষায় বাম গণতান্ত্রিক জোট অবিচল থাকবেই।
বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তুলনায়, বাম জোটের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে তারা সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে আপস করতে রাজি নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের এই পদক্ষেপ আগামী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
জোটের নেতারা বলেন, “আমরা চাই, দেশের মানুষ জানুক, সংবিধান রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তই সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন।” সংবাদ সম্মেলনের পর তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় আরও জানান, জনগণ ও ছাত্রসমাজকে তাদের এই অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করা হবে এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ করে যাবে।
জাতীয় রাজনীতিতে জোটের এই পদক্ষেপ নতুন সংলাপের সূচনা করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের মূল নীতিগুলো রক্ষার প্রশ্নে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং অন্যান্য দলগুলোকেও তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য প্রভাবিত করতে পারে।