কুড়িগ্রামে এমন কলেজগুলো যেখানে এইচএসসি পরীক্ষায় সবাই ফেল করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৬ বার

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কুড়িগ্রাম জেলায় এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক ফলাফল দেখা গেছে। জেলার নয়টি কলেজে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই পাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ফলাফলের কারণে হতাশার ছায়া নেমে এসেছে।

এবারের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল হওয়া কলেজগুলোতে মোট ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এই কলেজগুলো হল, রাজারহাট উপজেলার সিংগারডাবরিহাট কলেজ, রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ এবং টাপুরচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উলিপুর উপজেলার বাগুয়া অনন্তপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফুলবাড়ী উপজেলার রাশেদ খান মেনন কলেজ, নাগেশ্বরী উপজেলার সমাজ কল্যাণ উইমেন্স কলেজ, চিলাখানা মডেল কলেজ, কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ধলডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত পাঠদান ও অনুশীলনমূলক শিক্ষার অভাব এ ধরনের ফলাফলের মূল কারণ। অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পাঠ্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষকদের অভাব, অনুশীলনের সুযোগের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব মিলিত হয়ে এই ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে ওই কলেজগুলোতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠদানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

অভিভাবকরা বলছেন, তাদের সন্তানরা পরিশ্রম করেছে, কিন্তু যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সহায়তা না পাওয়ায় এই হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, অনেক সময় শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং সঠিকভাবে ক্লাসে পড়ানো না হওয়ার কারণে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে।

শিক্ষাবিদরা আরও বলেন, এই ধরনের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঠিক সমন্বয় ছাড়া এমন ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

উল্লেখ্য, এবছর দিনাজপুর বোর্ডের মোট পাসের হার ৫৭.৪৯%, যা গত বছর ২০২৪ সালে ছিল ৭৭.৫৬ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে কুড়িগ্রামের এই ফলাফল অনেকটাই উদ্বেগজনক। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামীতে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দায়িত্বশীলতা বাড়ালে এই ধরনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

ফলে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার মান, অবকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে অবহেলা থাকলে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বড় শাস্তি পায়। এখন জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি একযোগে কাজ করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় মনোযোগ দিতে বাধ্য।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যকার কার্যকর সমন্বয় এবং শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শিক্ষার এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়, বরং শিক্ষকদের কার্যকর প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা এবং মানসম্মত পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধরানো সম্ভব।

এবারের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তৎপর হতে উদ্বুদ্ধ করছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com