জুলাই সনদ স্বাক্ষর ঘিরে উত্তেজনা, অবস্থানকারীদের সরে যেতে আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪০ বার
জুলাই সনদ স্বাক্ষর ঘিরে উত্তেজনা, অবস্থানকারীদের সরে যেতে আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই শহীদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের’ প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান। দেশের ভাবমূর্তি ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় সবাইকে সংযমী হতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি প্রকাশ করতে হবে।”

ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটছে যখন ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জুলাই আন্দোলনের তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র মতপার্থক্য। শুক্রবার বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক এ সনদ স্বাক্ষরের সরকারি কর্মসূচি থাকলেও, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই এনসিপি আইনি ভিত্তির অভাবের কথা তুলে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এরপর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ ভবন এলাকায়। সকালে দেখা যায়, অতিথিদের জন্য সাজানো আসনে বসে আছেন ‘জুলাই শহীদের পরিবার’ ও আহত যোদ্ধারা। পুলিশ সদস্যরা মঞ্চ ও অতিথিদের আসনের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান নেয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

বৃহস্পতিবার রাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সকালে তারা সংসদ ভবনের মূল ফটক টপকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করেন এবং অনুষ্ঠানমঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা অতিথিদের আসনে বসে পড়েন এবং সেখানেই অবস্থান নেন।

অন্যদিকে সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অনুষ্ঠানটিকে ঐতিহাসিক মর্যাদা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কমিশনের সহসভাপতি আলী রিয়াজ জানিয়েছেন, “জুলাই সনদ জাতীয় পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক সংস্কারের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।” তবে এনসিপির অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরো আয়োজনকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

দলটির নেতারা বলছেন, “সংবিধান ও আইনি স্বীকৃতি ছাড়া এই সনদ কেবল একটি ঘোষণার মতোই থেকে যাবে, যা জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না।”

এদিকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির অনুপস্থিতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবস্থান কর্মসূচি সরকারের সংস্কার পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এখন সবার নজর দক্ষিণ প্লাজার দিকে—অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকে তার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত