প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায়। ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধারা’ সনদ স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে প্লাজায় অবস্থান নিলে তাদের সরিয়ে দিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে লাঠিচার্জ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
শুক্রবার সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জড়ো হন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা। তারা “আইনি ভিত্তিহীন সনদ নয়”, “জনগণের ঐক্য চাই”– এমন স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্থাপিত ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর মঞ্চের সামনে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিকবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তারা মঞ্চের সামনে চেয়ারে বসে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই স্থানটি একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত, তাই কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।” কিন্তু আহ্বান উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখলে পুলিশ অবশেষে বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু সময় পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীদের ভেন্যু থেকে সরিয়ে দেয়। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরিয়ে দেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের বাইরের এলাকায় ফিরে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং কিছু স্থানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। কয়েকটি অস্থায়ী দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে তিন দফা দাবি নিয়ে জুলাই যোদ্ধারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাদের দাবি ছিল — জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে এর আইনি ভিত্তি পরিষ্কার করা, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ আমন্ত্রণপত্র ছাড়াই সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করার চেষ্টা করা ছিল আইন লঙ্ঘনের শামিল। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু যখন তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এবং পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছি।”
বর্তমানে সংসদ ভবন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে।