পাঁচ দল নিয়ে বিপিএল: নতুন রূপে ব্যাট-বলের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
পাঁচ দল নিয়ে বিপিএল: নতুন রূপে ব্যাট-বলের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আবারও বদলে যাচ্ছে। আগের মতো চমক, প্রত্যাশা আর বিতর্ক নিয়েই সামনে আসছে বিপিএলের নতুন মৌসুম, তবে এবার কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে। বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিয়েছে, আগামী আসরে থাকবে পাঁচটি দল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল দলটি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনের মূল কারণ। আর নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বরিশালের মালিকানায় আগ্রহ না দেখানোর ফলে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকেও সরে আসে বিসিবি। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাঁচ দলের একটি নতুন মৌসুমের দিনক্ষণ প্রায় নির্ধারিত, শুরু আগামী ১৯ ডিসেম্বর।

বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকের পর গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, এ বছর দলগুলো হবে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম এবং সিলেট। অর্থাৎ দেশের প্রধান পাঁচটি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছে নতুন দলগুলো। বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে এই ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর নাম নতুন নয়। অতীতে এসব অঞ্চলের দলগুলো বিপিএলে ইতিহাস, আবেগ এবং উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই আবারও নতুনভাবে পথচলা শুরু করবে এই শহরগুলো। তবে এবার একটি বিশাল অনুপস্থিতির নাম বরিশাল। বিপিএলের সর্বশেষ আসরে যারা ট্রফি উঁচিয়ে ধরা গর্বের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছিল, তারাই এবার থাকছে না মাঠে। সমর্থকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে হতাশার খবর। অনেক বরিশালপ্রেমীই হয়তো ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, আবারও সেই প্রিয় রঙ, প্রিয় উৎসাহ, সেই প্রিয় স্লোগানগুলোকেই মাঠে দেখতে না পাওয়ার কষ্ট জানিয়ে।

যদিও বরিশাল না থাকলেও নতুন মৌসুমকে রঙিন করে তুলতে প্রস্তুত অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। বিসিবি জানিয়েছে, দল নেওয়ার জন্য মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ফ্রাঞ্চাইজি দেওয়া হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস লিমিটেডের মালিকানায় ঢাকা, নাবিল গ্রুপের রাজশাহী, টগি স্পোর্টস লিমিটেডের রংপুর, ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস লিমিটেডের চট্টগ্রাম এবং ক্রিকেট উইথ সামির সিলেট দল এবার মাঠ মাতাবে। বহুদিন পর বিপিএলে রাজশাহীর প্রত্যাবর্তনও সমর্থকদের কাছে আনন্দের সংবাদ। রাজশাহী সবসময়ই প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত, তাই তাদের দলে নতুন কিছু মুখ দেখার আশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

বিপিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি চলবে আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। তার আগে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার ড্রাফট। যদিও তারিখগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত নয়। বিসিবি জানিয়েছে, ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই সবকিছু স্থির করা হবে। একইসঙ্গে এখনও নিশ্চিত হয়নি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যু যোগ করা হবে কি না। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে, বিপিএলের বড় ম্যাচগুলো সাধারণত ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হয় এবং এবারও রাজধানীই প্রধান ভেন্যু হতে পারে। বিসিবির সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সব দিক বিবেচনা করেই দল বাছাই করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল একটি প্রতিযোগিতামূলক ও উচ্চমানের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা।

বিপিএলের ইতিহাসে দলসংখ্যা কমানো বা বাড়ানো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও নানা সময়ে নীতিমালা, স্পন্সরশিপ এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। তবে ক্রিকেট ভক্তরা সবসময় চান টুর্নামেন্ট যেন নিয়মিত হয় এবং সচল থাকে। বিপিএলের ব্র্যান্ড ভ্যালু, আন্তর্জাতিক চিত্র ও খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য স্থিতিশীলতা জরুরি। এবারের সিদ্ধান্তে সেই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে পাঁচ দলের টুর্নামেন্ট হলেও উত্তাপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অপ্রত্যাশিত ফলাফলের ড্রামা, এগুলো যে কমবে না—এটা বোঝাই যাচ্ছে।

তবে দলসংখ্যা কমে আসায় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা অবশ্যই বাড়বে। বিপিএল সবসময়ই ছিল দেশের তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিজেদের মেলে ধরার প্ল্যাটফর্ম। এবার পাঁচ দলের স্কোয়াডের জায়গা সীমিত হওয়ায় অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার হয়তো বাইরে থেকে যেতে পারে। আবার অন্যদিকে, যারা দলে জায়গা পাবেন, তাদের জন্য এটি নিজেকে প্রমাণ করার বিরল সুযোগ। বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার অনেক গল্পই শুরু হয়েছে বিপিএল থেকে, এবং সেই ধারায় নতুন নক্ষত্র উঠে আসবে বলেই বিশ্বাস সমর্থকদের।

অন্যদিকে, ক্রিকেট বিশ্ব এখন পর্যন্ত নানা টি–টোয়েন্টি লিগের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ভরপুর। আইপিএল, পিএসএল, বিগ ব্যাশ, এলপিএল, সিপিএল, দ্য হান্ড্রেড—সব মিলিয়ে এখন প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব টি–টোয়েন্টি ব্র্যান্ড রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডার ও বিশ্ব লিগগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিপিএল টিকে থাকতে হলে পরিকল্পনা, প্রচার এবং মানের ওপর আরও বেশি বিনিয়োগ দাবি করছে সমর্থকরা। তবে এও সত্য, বিপিএলের প্রতি আবেগ বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে প্রবল, যা এই টুর্নামেন্টকে সবসময়ই দিয়েছে আলাদা মর্যাদা।

বরিশালের অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া শূন্যতা যতই বড় মনে হোক, নতুন মৌসুম নতুন আবেগও তৈরি করবে। মাঠে নামবে পাঁচ শহরের গর্ব, আর তাতে থাকবে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস। ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে: কোন দল কেমন দল গঠন করবে, কাদের দলে আসবে তারকা বিদেশি, কোন তরুণ দেখাবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স—সব হিসাবের খেলা জমতে শুরু করেছে। আর যারা বরিশালকে মিস করবেন, তারা হয়তো অন্য কোনো দলের হয়ে নতুন গল্প বুনবেন।

দিনশেষে, বিপিএল কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি ক্রিকেটে বেঁচে থাকা এক দেশের উচ্ছ্বাস, শহরের গর্ব, বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা আর টেলিভিশনের সামনে উত্তেজনায় জমাট বাঁধা সন্ধ্যার গল্প। তাই দল কমলেও আবেগ কমবে না। আর ডিসেম্বরের সেই প্রথম বাঁশির অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ, যেমন থাকে প্রতি শীতেই। পাঁচ দলের এই বিপিএল আবারও জানিয়ে দেবে, ক্রিকেট এই দেশের অনুভূতির নাম, একতার নাম, আশার নাম।

শেষতক মাঠেই প্রমাণ হবে, পাঁচের লড়াইতেও উত্তাপ কম নয়—বরং সেখানেই হয়তো নতুন কিংবদন্তির জন্ম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত