আজ রাতেই আকাশে বিরল দৃশ্য: ‘বিভার সুপারমুন’ উদ্ভাসিত হবে পূর্ণ জ্যোৎস্নায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
আজ রাতেই আকাশে বিরল দৃশ্য: ‘বিভার সুপারমুন’ উদ্ভাসিত হবে পূর্ণ জ্যোৎস্নায়

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নভেম্বরের আকাশ আজ সাজবে এক অপূর্ব রূপে। বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল পূর্ণচন্দ্র— ‘বিভার সুপারমুন’— আজ সন্ধ্যায় উদিত হবে দিগন্তে, স্নিগ্ধ আলোর জোছনায় মাতাবে গোটা পৃথিবী। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজকের পূর্ণিমা দেখা যাবে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও বড় আকারে। কারণ চাঁদ আজ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী কক্ষপথে অবস্থান করছে। এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটিই সুপারমুন নামে পরিচিত।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, আজকের চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করবে। ফলে সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় এর আলো ও আয়তন উভয়ই হবে আরও স্পষ্ট এবং দীপ্তিময়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকেই উপভোগ করা যাবে এই চন্দ্র-সৌন্দর্য। আজ বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটের পরই পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে এই পূর্ণচাঁদ, ঠিক সূর্যাস্তের পরপরই। গোধূলির আলো ফুরোতেই আকাশে উঠবে রূপালী দীপ্তির এক অনিন্দ্য উৎসব।

‘বিভার মুন’ নামে পরিচিত এই নভেম্বরের পূর্ণিমা শতবর্ষ ধরে উত্তর আমেরিকান আদিবাসী ও ইউরোপীয় ঐতিহ্যের অংশ। বলা হয়, শীতের আগে এ সময় বীবর বা বিবার নামের প্রাণীরা তাদের বাঁধ সংস্কার করে এবং খাবার মজুত করতে ব্যস্ত থাকে। তাই এই পূর্ণিমার নামকরণ করা হয়েছে তাদের আচরণ ও জীবনচক্রের সঙ্গে মিল রেখে। আবার বহু সংস্কৃতিতে এই পূর্ণিমাকে ‘ফ্রস্ট মুন’, ‘ফ্রিজিং মুন’, কিংবা ‘ট্রেডিং মুন’ বলেও ডাকা হয়, কারণ এটি শীতের আগমন বার্তা বহন করে।

আজকের রাতের আকাশ শুধু চাঁদের আলোয় মোড়া থাকবে না, আরও দেখা যাবে নাক্ষত্রিক সৌন্দর্যের সমাহার। প্লাইয়েডস ও হাইডস নক্ষত্রগুচ্ছ, ওরিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জ এবং জুপিটার বা বৃহস্পতিও আজ দৃশ্যমান হবে খালি চোখে। তাই যারা জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী কিংবা আকাশপানে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখেন, আজকের রাত তাদের জন্য অতুলনীয় সৌভাগ্যের দিন। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের রুক্ষ পৃষ্ঠ, পাহাড়, ক্রেটার ও সমতল অংশগুলো আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে বলে মত জ্যোতির্বিদদের।

গত মাসে ‘হারভেস্ট সুপারমুন’ বিশ্বজুড়ে আকাশপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিল। নভেম্বরে ‘বিভার সুপারমুন’ সেই বিস্ময়ে আরেক নতুন অধ্যায় যোগ করবে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, সুপারমুন ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি ও মনোজগতেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এটি শুধুই খগোলীয় সৌন্দর্যের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তারপরও চাঁদের আলোতে মানবমনের কোমলতা ও কল্পনার ডানাই যেন ডানা মেলে উড়তে চায়— এর সৌন্দর্য সত্যিই হৃদয় স্পর্শ করে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশের ছবি তুলতে প্রস্তুত হচ্ছেন আলোকচিত্রী ও মহাকাশপ্রেমীরা। সামাজিক মাধ্যমে আজ রাতের সুপারমুনের ছবি শেয়ার করার উৎসবও দেখা যাবে। শহরে যাদের উচ্চ ভবনের মাঝে আকাশ দেখা কষ্টকর, তারাও কোনো উঁচু জায়গা বা খোলা স্থানে গেলে সহজেই দেখতে পাবেন এই বিরল দৃশ্য। বিশেষত নদীতীর, সমুদ্রসৈকত, মাঠ বা গ্রামাঞ্চলে থাকলে ভরপুর পূর্ণিমার আলোয় আকাশের সৌন্দর্য আরও মুগ্ধ করবে।

শীতের আগমনী হাওয়া, শিশিরভেজা সন্ধ্যা আর রাতজাগা আকাশের নীরবতায় আজ যেন পৃথিবী প্রকৃতি ও মহাজগত একসঙ্গে জেগে উঠবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসা আর কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে আজ বিশেষ কোনো আয়োজনের দরকার নেই— শুধু খোলা আকাশ আর একটু নিঃশব্দ সময়ই যথেষ্ট। তাই ব্যস্ততার শহুরে জীবনে আজ একটু থামুন, চোখ তুলে তাকান আকাশে। হয়তো এই বিভার সুপারমুন আপনার মনকেও ভরে দেবে শান্তি, সৌন্দর্য আর অজানা সুখের আলোয়।

প্রকৃতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, মহাবিশ্ব কত বিস্ময়পূর্ণ— আমরা শুধু তাকিয়ে দেখার অপেক্ষায়।

আজকের রাত হোক আলোয় ভরা, কবিতার মতো নীরব আর চাঁদের আলোয় স্নিগ্ধ এক শান্তির মহোৎসব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত