নির্বাচন নিয়ে কোনো হুমকি নেই, উৎসবমুখর ভোটের প্রস্তুতি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
নির্বাচন নিয়ে কোনো হুমকি নেই, উৎসবমুখর ভোটের প্রস্তুতি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুর, ৫ নভেম্বর — আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। তিনি বলেন, “নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। নির্বাচন নিয়ে কোনো থ্রেট নেই। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিয়েই আমরা সামনে এগোতে চাই।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষি উৎপাদন এবং সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এখন পুরো দেশ নির্বাচনমুখী। সাধারণ মানুষ ভোটের অপেক্ষায় আছে। নির্বাচনের সময় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব—সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—নির্বাচনকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নির্বাচনকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ ভাবছেন, তারা সফল হবেন না। জনগণ নির্বাচনের পক্ষে, তাই কোনো অসৎ চেষ্টাই সফল হবে না।”

জনগণের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মূল ফ্যাক্টর হচ্ছে জনগণ। মানুষ যখন নিজে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন কোনো শক্তিই তাদের পথে বাধা হতে পারে না। আমরা চাই দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে যাক, আনন্দময় পরিবেশে প্রার্থী বেছে নিক।”

সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বহির্বিশ্বে ছড়ানো বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় পার্শ্ববর্তী দেশ বা অন্যান্য উৎস থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। আপনারা সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরুন, জনগণকে সঠিকটা জানান। কোনো ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার বা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা সফল হবে না।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামিনপ্রাপ্ত কেউ যদি আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আদালত স্বাধীন; বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সবকিছু চলবে।”

গাজীপুরকে ‘হ্যাপেনিং সিটি’ হিসেবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এখানে প্রতিদিন নানা ধরনের কর্মকাণ্ড হয়। তবে সব তথ্যই সঠিকভাবে প্রচার পায় না। মানুষের নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় কাজ করছি।” তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের প্রসঙ্গে বলেন, “মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রয়েছে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।”

দেশের কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “কৃষি হলো দেশের প্রাণ। পর্যাপ্ত সার, বীজ ও সেচ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তৎপর রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

গাজীপুরের মতো শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তাসহ কারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমন্বিতভাবে চলবে।”

সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি কর্মশালা উদ্বোধন করেন এবং গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানেও তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা আমাদের দায়িত্ব। সুষ্ঠু নির্বাচন সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি জেলা ও বিভাগে এ ধরনের সভা-সম্মেলন ও প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রস্তুতির হাঁক-ডাকও মাঠে শোনা যাচ্ছে। দেশের মানুষ নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহী ও আশাবাদী।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সব মহলের সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকার ও প্রশাসনের ঘোষিত নিশ্চয়তা বাস্তবে প্রতিফলিত হলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বলা যায়—বাংলাদেশ এখন নির্বাচনমুখী, এবং এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা বড়। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণ সমানভাবে দায়বদ্ধ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত খুলবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত