টানা দ্বিতীয়বার এমএলএসের বর্ষসেরা একাদশে মেসি, ছুঁলেন নতুন ইতিহাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
টানা দ্বিতীয়বার এমএলএসের বর্ষসেরা একাদশে মেসি, ছুঁলেন নতুন ইতিহাস

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) মানেই এখন লিওনেল মেসির জাদুতে ভরপুর এক মৌসুম। ইউরোপের মঞ্চে দুই দশকের ঐতিহ্য গড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই যেন নতুন ইতিহাস লিখছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি শুধু নিজের ফুটবল প্রতিভার ধারই বজায় রাখেননি, বরং পুরো লিগের মানকেই যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জেতার পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। এটি তাঁর জন্য আরেকটি গৌরবের পালক, যা প্রমাণ করে—সময় যতই পেরিয়ে যাক, মেসির আলো এখনো নিভে যায়নি, বরং আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে নতুন মহাদেশে।

এমএলএসের বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পাওয়া মানে লিগের সেরা খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি পাওয়া। আর সেখানে টানা দ্বিতীয়বার নাম ওঠানো যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য বিশাল অর্জন। ৩৮ বছর বয়সী মেসি এবার সেই বিরল অর্জনের অংশীদার। এমএলএসের ইতিহাসে এমন ধারাবাহিক প্রভাব রাখার উদাহরণ খুব বেশি নেই। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসি শুধু গোল করেছেন তা নয়, নিজের সতীর্থদের জন্য অসংখ্য গোলের সুযোগও তৈরি করেছেন। চলতি মৌসুমে তিনি একাই গোল এবং অ্যাসিস্ট—দুটি বিভাগেই শীর্ষে ছিলেন। ফলে এমএলএসের ইতিহাসে এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল অবদান রাখা খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান তিনি।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসির উপস্থিতিই যেন দলটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। একসময় তলানিতে থাকা এই ক্লাব এখন মেসির নেতৃত্বে উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাঠে তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং, কৌশলগত দক্ষতা এবং খেলার দর্শন পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেছে নতুনভাবে। মায়ামির জার্সিতে তাঁর প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি পাস যেন দর্শকদের জন্য এক একটি শিল্পকর্ম। এমএলএসের ভক্তরা তাই এখন গর্ব করে বলেন—“আমাদের লিগেও মেসি খেলছেন।”

এই মৌসুমে মেসির গোলের সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিটি গোলের পেছনে ছিল একেকটি গল্প। কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনে তোলা, শেষ মুহূর্তে জয়সূচক আঘাত হানা কিংবা নিখুঁত ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে অবাক করে দেওয়া—মেসির পারফরম্যান্সে ছিল সেই পুরনো ম্যাজিকের ছোঁয়া। তাঁর সাফল্য শুধু ইন্টার মায়ামিকেই নয়, পুরো এমএলএসকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। দর্শকসংখ্যা বেড়েছে, সম্প্রচার রেটিং বেড়েছে, আর মেসির উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল এখন আরও জনপ্রিয়তার শিখরে।

বর্ষসেরা একাদশে এবার মোট নয়টি ক্লাবের খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ দলে নাম লেখালেন। এটি এমএলএসের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যকেই প্রতিফলিত করে। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন এবং ভ্যাঙ্কুবার হোয়াইটক্যাপস থেকে সর্বোচ্চ দুইজন করে খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে মেসির নামই সবার আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, বয়সের ভারে ন্যুব্জ না হয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন—মহান খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

এবারের একাদশে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এমএলএসের ইয়াং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। অরল্যান্ডো সিটির এই তরুণ তারকা মাত্র কুড়ির কোঠার কিশোর বয়সে জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের দলে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন। এর আগে ২০২০ সালে ব্রেন্ডেন অ্যারনসন ছিলেন সর্বশেষ তরুণ খেলোয়াড় যিনি বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন। তরুণদের এই উত্থান এবং মেসির মতো প্রবীণ তারকার অভিজ্ঞতা—দুটি প্রজন্মের মিলনে এমএলএস এখন যেন এক অভিনব ভারসাম্যের প্রতিচ্ছবি।

একইসঙ্গে সান ডিয়েগো এফসির আন্ডার্স ড্রেয়ারও লিখেছেন নতুন ইতিহাস। ২০২০ সালের পর এবারই প্রথমবার কোনো নতুন এক্সপ্যানশন টিম থেকে একজন খেলোয়াড় সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন। তাঁর আগে রোমান বুরকি ও ওয়াকার জিমারম্যান এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। এসব অর্জন দেখিয়ে দেয়, এমএলএস এখন আর শুধুই অভিজ্ঞ ইউরোপীয় তারকাদের মঞ্চ নয়; বরং নতুন প্রজন্মের প্রতিভাদেরও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে।

মেসির এই অর্জনের পেছনে তাঁর পরিশ্রম, আত্মনিবেদন ও খেলায় গভীর ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা। ইউরোপীয় ফুটবলে সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা যুক্তরাষ্ট্রে এসেও একই তীব্রতায় লড়ছেন, একই আবেগে খেলছেন। এমএলএসের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমনভাবে স্বল্প সময়ে ভক্তদের হৃদয় জয় করতে পেরেছেন। ইন্টার মায়ামির মাঠে তাঁর প্রতিটি উপস্থিতি এখন উৎসবে পরিণত হয়। ম্যাচের আগেই টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিটি মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়ে কোটি মানুষের মাঝে।

ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, মেসির প্রভাব শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের বাজারে তাঁর উপস্থিতি বিশাল অর্থনৈতিক পরিবর্তন এনেছে। ক্লাবগুলোর আয় বৃদ্ধি, সম্প্রচার অধিকারমূল্যের উল্লম্ফন এবং বিশ্বজুড়ে এমএলএসের প্রতি নতুন আগ্রহ—সবকিছুরই কেন্দ্রে আছেন মেসি। তাঁর হাত ধরেই হয়তো ভবিষ্যতে এমএলএস বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী লিগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

লিওনেল মেসির টানা দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা একাদশে স্থান পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি এমএলএসের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। বয়সের সীমা পেরিয়েও যে খেলার প্রতি ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না, তা আবারও দেখালেন ফুটবলের রাজপুত্র। তিনি প্রমাণ করলেন, মেসি শুধু এক খেলোয়াড় নন, বরং ফুটবল নামের এই খেলার অমর প্রতীক। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা—স্বপ্ন দেখো, লড়ো, আর নিজের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দাও।

ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্র এখন আবারও মেসি। এমএলএসের এই নতুন ইতিহাস তাঁর ক্যারিয়ারে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করল। প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার কোথায় থামবেন লিওনেল মেসি? উত্তর হয়তো একটাই—তিনি থামবেন না, কারণ ফুটবল এখনো তাঁর শ্বাসের সঙ্গে মিশে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত