গুম রোধে শক্ত আইন: মৃত্যুদণ্ডসহ অধ্যাদেশ অনুমোদিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
গুম রোধে শক্ত আইন: মৃত্যুদণ্ডসহ অধ্যাদেশ অনুমোদিত

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় উপদেষ্টা পরিষদ ‘গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই আইনে গুমের মতো জঘন্য অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গুমের সংস্কৃতি’ বন্ধের একটি দৃঢ় বার্তা দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ আজকের বৈঠকে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় লজিস্টিক নীতি—দুটি প্রস্তাবেরই চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যাদেশটি হলো গুম প্রতিরোধ আইন, যেখানে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রেস সেক্রেটারি বলেন, “এই আইনে গুমের মতো অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের ঘটনার তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, আর কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষের পক্ষে গুমের রাজত্ব চালানো সম্ভব হবে না।”

গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে শুরু করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত দাবি করে আসছিল। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের নতুন উদ্যোগটি মানবাধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

https://russkinbright.com/courses/graphics-

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। একজন সাবেক আইন কমিশন সদস্য বলেন, “গুম প্রতিরোধ আইনটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু আইনকে কার্যকর করতে হলে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আইনটি শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রতিকার নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আইনের মাধ্যমে পূর্বের গুমের ঘটনাগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের পথ সুগম হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুমের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা সরকারের একটি ‘কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয়’ সিদ্ধান্ত। এতে জনমনে সরকারের প্রতি আস্থার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হবে।

এদিকে সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে নতুন এই আইন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আইনটি প্রয়োগের মাধ্যমে গুমের ভয়াবহতা কমে আসবে। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপে এটি এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই আইন কার্যকর হলে গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। গুমের শিকারদের পরিবার যাতে অভিযোগ জানাতে ও বিচার পেতে সক্ষম হয়, সে লক্ষ্যেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগে অভিযুক্তদের তদন্তের দায়িত্ব কোনো একক সংস্থার হাতে না রেখে একাধিক স্বাধীন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত টিমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি বলেন, “এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্র এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো স্থান এই দেশে থাকবে না। মানবাধিকার রক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ বা গুমের অভিযোগ রাজনৈতিক আলোচনায় আলোচিত হয়ে আসছে। অনেক পরিবার আজও তাদের প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। নতুন এই আইন তাদের জন্য এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত