জানুয়ারিতে নতুন বই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বছর শেষ হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তাই দেশের বিভিন্ন ছাপাখানায় চলছে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার ব্যস্ততা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই, কাটিং ও প্যাকেজিংয়ে সংশ্লিষ্টদের যেন নিঃশ্বাস ফেলারও ফুরসত নেই। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি বইয়ের ছাপার কাজ শেষ হয়েছে এবং সেগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে।

তবে চিত্রটা ভিন্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাধ্যমিকের বেশিরভাগ বইয়ের ছাপাই এখনো পুরোপুরি শুরু করতে পারেনি অধিকাংশ প্রেস। মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান গতিতে কাজ চললে জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বই ছাপা শেষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিকের ৯ কোটি এবং মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির প্রায় ২১ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ শেষ হলেও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ বইয়ের ছাপার চুক্তি সম্প্রতি করা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রেস মাত্রই ছাপার কাজ শুরু করেছে। চুক্তি অনুযায়ী এসব বই ছাপাতে প্রেসগুলোকে ৫০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল হওয়ায় ছাপার কাজে বড় ধরনের বিলম্ব হয়েছে। ফলে জানুয়ারির মধ্যে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো কঠিন হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, রমজান ও ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় জানুয়ারির মধ্যেই বই বিতরণ শেষ করার বিকল্পও খুব সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাই আশাবাদী। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবই সময়মতো না পেলে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সায়্যেদা আতিকুন নাহার বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যবই এখনো মূল উৎস। বছরের শুরুতে বই না পেলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও ধারাবাহিকতা দুটোই ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, স্বাভাবিক গতিতে জানুয়ারির মধ্যে ৭০ শতাংশ বই বিতরণ করা কঠিন। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উদ্যোগী হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে পাঠ্যবই ছাপানো ও বিতরণে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। কিছু ক্ষেত্রে পুনঃটেন্ডারের প্রয়োজন হলেও এখন সব অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তার মতে, সামান্য দেরি হতে পারে, তবে সরকার জানুয়ারির মধ্যেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com