হাদি ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী সাহসী কণ্ঠস্বর: ডা. ইরান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। শুক্রবার লেবার পার্টির প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি অন্যায়, দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

ডা. ইরান বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে বিদেশের মাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভয়াবহ চিত্র ভেসে উঠেছে। এটি কেবল একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়; বরং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, হাদির রক্ত বৃথা যাবে না, বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং তার ত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রেরণা হয়ে থাকবে।

শোকবার্তায় ডা. ইরান মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল বাকশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ডা. ইরান আরও বলেন, হাদি যে সাহস ও সততার সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এক মূল্যবান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার ত্যাগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনচেতা ও ন্যায্যতার প্রতি অঙ্গীকারের চেতনা জাগবে।

হাদির জীবনের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, হাদি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রই ছিলেন না; তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য অবিচল সংগ্রামী ছিলেন। তিনি সবসময় সৎ, সাহসী এবং সততার পথ অনুসরণ করে চলেছেন, যা তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের এক অমোঘ প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শোকবার্তায় ডা. ইরান উল্লেখ করেন, হাদির মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লড়াই করার পথে বিপদ ও হুমকি সবসময় বিদ্যমান। কিন্তু এসব হুমকি কখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। হাদির ত্যাগ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সত্য, ন্যায় এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য কখনো থেমে থাকা যায় না।

তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদি আমাদের সকলকে দেখিয়ে গেছেন, সাহস, সততা এবং ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারই গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। তার আত্মত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তির জীবনক্ষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এক শক্তিশালী প্রেরণা। হাদির আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থিরচিত্তে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।

ডা. ইরান সবাইকে আহ্বান জানান, হাদির প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে শোক পালন করতে এবং তার লক্ষ্য ও আদর্শকে এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার। তিনি বলেন, আজকের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই অব্যাহত থাকে।

শরীফ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গভীর ছাপ ফেলেছে। ডা. ইরান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, হাদির ত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন আরও দৃঢ় হবে এবং তার রক্ত স্রোতের মতো তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com