ঢাকায় কনকনে শীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৫ বার
ঢাকায় কনকনে শীত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কনকনে শীতের মধ্যে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফার্মগেট, বাংলামোটর, ধানমন্ডি, রামপুরাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। শীতের তীব্রতা এবং বৃষ্টির কারণে জনজীবন বেশিরভাগ সময়েই ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে, কিন্তু কমবয়সী শ্রমজীবীরা এবং বাইরে কাজ করা মানুষরা তাপের অভাবে আরও কষ্ট পাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তার পরবর্তী কয়েক দিনে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তবুও আংশিক মেঘলা আকাশের কারণে দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা কখনও কখনও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগও সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করে আবহাওয়া অফিস।

কয়েকদিন ধরে দেশের তাপমাত্রার অবনতি অব্যাহত আছে। কিশোরগঞ্জে মঙ্গলবার নিকলীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। এই তাপমাত্রার সঙ্গে শীতের আর্দ্রতা মিলিত হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া ক্রমেই কনকনে শীতের চাপে জনজীবনকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছে।

রাজধানীর ফুটপাত ও রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের দৃশ্য এবারও দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ ও দোকানদাররা বাড়ির ভেতরে এবং দোকানের বাইরে আগুন জ্বালিয়ে তাপ রক্ষা করতে ব্যস্ত ছিলেন। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের জন্য এই ঠান্ডা আবহাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, বাইরের খেটে খাওয়া মানুষরা কনকনে ঠান্ডায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শীতের এই প্রবণতা চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকতে পারে। শীত ও কুয়াশার কারণে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। দিনের বেলায় সূর্য না ওঠার কারণে তাপমাত্রা বেশি বাড়ছে না। ফলে দেশের আবহাওয়া শুষ্ক ও ঠান্ডা থাকে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।

শীত ও বৃষ্টির কারণে ঢাকাসহ দেশের সড়কপথ ও যোগাযোগে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাস, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশও প্রভাবিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের আবহাওয়া শিশু, বৃদ্ধ এবং শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে বাইরে বের হতে হবে।

অবিলম্বে গরম কাপড় ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শীত ও কুয়াশার প্রভাব থাকবে। তাই জনসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে।

রাজধানীতে কনকনে শীত ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এখন দিনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন জনজীবনের ওপর প্রভাব ফেলছে। গরম কাপড়, আগুন জ্বালানো এবং ভ্যাকসিন, ওষুধসহ শীতজনিত প্রস্তুতি গ্রহণ এখন একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শীতে বৃষ্টির সংমিশ্রণ আর কুয়াশার কারণে সাময়িকভাবে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যাহত হলেও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনে আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থাকলেও শুষ্ক থাকবে। এর ফলে শীতের তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।

রাজধানীর সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্ক থাকতে হবে। শীতের এই সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা, উষ্ণ পোশাক এবং শিশুসহ বৃদ্ধদের নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও কুয়াশা আরও কিছু দিন রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com