মায়ের প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসায় চিরকৃতজ্ঞ তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৩ বার
মায়ের মৃত্যুতে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে যে বিপুল শোক, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শোকাহত হৃদয়ে তিনি বলেছেন, তার মায়ের প্রতি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক সম্মান তাদের পরিবারের জন্য আজীবনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তারেক রহমান এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি গভীর শোক ও বিশ্বাসের ভাষায় লেখেন, “আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” এই বাক্যেই যেন ফুটে ওঠে একজন পুত্রের ব্যক্তিগত বেদনা, আবার একই সঙ্গে একটি জাতির শোকের প্রতিধ্বনি।

তারেক রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি পরিবারের মা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি জাতির নেতৃত্বের প্রতীক। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপোষহীন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা, আবার অনেকের কাছে বাংলাদেশের মা। তার মৃত্যুতে দেশ এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়েছে, যিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন। তারেক রহমানের ভাষায়, এই শোক ও শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, একজন সন্তান হিসেবে মাকে স্মরণ করতে গিয়ে তারেক রহমান লেখেন, তার কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মমতাময়ী মা। তিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশ ও মানুষের জন্য। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবার ও নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার নেতৃত্ব ছিল দৃঢ় ও অবিচল।

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন পরিবারের একজন সত্যিকারের অভিভাবক। পরিবারের কঠিন সময়গুলোতে তার ভালোবাসা ও সাহস ছিল এক অদৃশ্য আলোকবর্তিকা। রাজনৈতিক নিপীড়ন, বারবার গ্রেফতার, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং একাকিত্বের যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি কখনো ভেঙে পড়েননি। বরং এই কষ্টের মাঝেই তিনি পরিবারের সদস্যদের মাঝে সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেমের শক্তি সঞ্চার করেছিলেন।

তারেক রহমানের লেখায় উঠে আসে, দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কী মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি হারিয়েছেন তার জীবনসঙ্গী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, হারিয়েছেন সন্তানকেও। এই ব্যক্তিগত ক্ষতির পরও তিনি কখনো পেছনে ফিরে তাকাননি। দেশ ও দেশের মানুষই হয়ে উঠেছিল তার পরিবার, তার অস্তিত্ব ও তার সত্তা। এই দেশকে ভালোবেসেই তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

তারেক রহমান বলেন, তার মা রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় এই ইতিহাস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পড়বে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার নাম একটি সাহসী অধ্যায় হিসেবে উঠে আসবে—এমনটাই বিশ্বাস করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে তারেক রহমান আবেগঘন কণ্ঠে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, সবাই যেন তার মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। তিনি লেখেন, তার মায়ের প্রতি দেশবাসীর যে আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তাতে তিনি ও তার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসাই তাদের শোক সহ্য করার শক্তি দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল, সংগ্রামমুখর ও সাহসে ভরপুর। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তারেক রহমানের এই বার্তা শুধু একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, এটি একজন সন্তানের হৃদয়ভাঙা অনুভূতি, আবার একই সঙ্গে একটি জাতির স্মৃতিচারণা। মায়ের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি যেন দেশবাসীর সঙ্গে শোক ভাগ করে নিয়েছেন। এই শোকের দিনে তারেক রহমানের কণ্ঠে উচ্চারিত কৃতজ্ঞতার শব্দগুলোই বলে দেয়—বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, তিনি ছিলেন একটি দেশের ইতিহাসের অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com