ঘন কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত রাজধানীর জনজীবন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো রাজধানী, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন বছরের শুরুতেই শীতের তীব্রতায় কাঁপছে রাজধানী ঢাকা। সারা দেশের মতো রাজধানীতেও বেড়েছে শীতের দাপট, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। শুক্রবার ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় নগরীর আকাশ ও চারপাশের দৃশ্যপট। দূর থেকে ভবন, গাছপালা কিংবা সড়কের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। কনকনে ঠান্ডা আর কুয়াশার যুগল আক্রমণে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

ভোররাতে ও সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা এতটাই কমে গিয়েছিল যে কয়েক হাত দূরের বস্তু চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ফ্লাইওভার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও খোলা সড়কগুলোতে চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও সাময়িক যানজটও সৃষ্টি হয়, যদিও শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল কিছুটা কম ছিল।

তবুও প্রয়োজনের তাগিদে যারা বাইরে বের হয়েছিলেন, তাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে অফিসগামী মানুষ, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন। রিকশাচালক, দিনমজুর, পথচারী ও ভাসমান মানুষেরা শীতের এই দাপট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেককে দেখা গেছে একাধিক গরম পোশাক পরেও কাঁপতে কাঁপতে কাজ করতে। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে বা চায়ের দোকানে ভিড় করে শীত থেকে সাময়িক স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকালে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসায় অনেকেই স্বাভাবিক কাজ করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতের প্রভাব আরও বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সকালে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের গায়ে অতিরিক্ত সোয়েটার, মাফলার ও টুপি দেখা গেলেও অনেক অভিভাবক শীতের কারণে সন্তানদের বাইরে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময় শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে। ঘন কুয়াশার কারণে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন ছাড়া ভোরের দিকে বাইরে বের না হওয়া, গরম কাপড় ব্যবহার করা এবং গরম খাবার গ্রহণ করার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাব রাজধানীতেও পড়ছে এবং আরও কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসের গতিবিধি কম থাকলে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ে। নদী, জলাশয় ও খোলা জায়গা ঘিরে থাকা শহরগুলোতে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ঢাকার মতো জনবহুল শহরে কুয়াশার সঙ্গে ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ মিশে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে দৃশ্যমানতা যেমন কমে যায়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।

নগরবাসীরা বলছেন, শীত ও কুয়াশা মিলিয়ে সকালবেলার চলাচল দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক অফিসগামী মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। যেসব পেশায় ভোরে কাজ শুরু করতে হয়, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর। বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। শীতের কারণে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

এদিকে কুয়াশার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খাতেও। বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে দূরত্ব বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। যদিও এখন পর্যন্ত রাজধানীতে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতিতে সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানাচ্ছেন অনেকেই। কারণ রাজধানীতে বসবাসকারী হাজারো মানুষ এখনও পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেন শীত ও কুয়াশার এই সময়টা নিরাপদে পার করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত