বিশ্ব ইন্টারনেট গতির শীর্ষে জাপান: ১ সেকেন্ডে নেটফ্লিক্সের সব ভিডিও ডাউনলোড

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
বিশ্ব ইন্টারনেট গতির শীর্ষে জাপান: ১ সেকেন্ডে নেটফ্লিক্সের সব ভিডিও ডাউনলোড

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কল্পবিজ্ঞানকেও যেন বাস্তবে পরিণত করল জাপান। বিশ্বের ইন্টারনেট প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে তারা এবার ছুঁয়ে ফেলেছে এমন এক উচ্চতা, যা আগে শুধু স্বপ্নে কল্পনা করা যেত। প্রতি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবাইট (১০ লাখ ২০ হাজার গিগাবিট) গতির ডেটা স্থানান্তর করে জাপানের গবেষকেরা বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। এই গতিতে একটি পুরো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের লাইব্রেরি—যেমন নেটফ্লিক্স—মাত্র এক সেকেন্ডে নামিয়ে ফেলা সম্ভব।

এই অবিশ্বাস্য সাফল্য এসেছে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (এনআইসিটি) থেকে, যারা গত জুন মাসেই এই রেকর্ড তৈরি করে। বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস

তবে বিষয়টি নিছক কোনো পরীক্ষাগার নির্ভর গবেষণা নয়। বরং এনআইসিটি তাদের গবেষণায় ব্যবহার করেছে সেই ফাইবার অপটিক তার, যা বিশ্বব্যাপী ইতোমধ্যে ইন্টারনেট পরিকাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যেই তারা অন্তর্ভুক্ত করেছে চারটি আলাদা কোর এবং ৫০টিরও বেশি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য—যার মাধ্যমে এই অভাবনীয় ডেটা গতি অর্জিত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে ৫১.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে, যা ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এই উদ্ভাবনের পর ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারণাই যেন বদলে যেতে বসেছে। মুহূর্তের মধ্যেই সম্পন্ন হবে সব ধরনের ভারী ডেটা কার্যক্রম। গেমিং জগতে স্টিম বা প্লে-স্টেশনের সর্বোচ্চ ডেটাসাইজের গেমগুলো যেমন কাউন্টার-স্ট্রাইক ২ বা বালদুর’স গেট ৩, এগুলো মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ডাউনলোড করে খেলা শুরু করা যাবে। একই সঙ্গে কোটি কোটি ব্যবহারকারী ৮কে আল্ট্রা এইচডি মানের ভিডিও স্ট্রিম করতে পারবে কোনো বিঘ্ন ছাড়া।

এমনকি এই গতিতে প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ সাতাশ হাজার বছরের সমান গান ডাউনলোড করা যাবে। উইকিপিডিয়ার পুরো তথ্যভাণ্ডার মাত্র এক সেকেন্ডে দশ হাজার বার ব্যাকআপ নেওয়া যাবে—এমনটিই বলছে গবেষণা। শুধু তাই নয়, এই গতি অর্জনের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিয়েল-টাইম অনুবাদ, স্বচালিত গাড়ি, ক্লাউড কম্পিউটিং ও স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থাকে—এই ইন্টারনেট কি এখনই ঘরে পাওয়া যাবে? উত্তর হলো, না। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই গতি এখনই হাতের নাগালে আসছে না। বর্তমানে গৃহস্থালী ব্যবহারে টেরাবাইট গতি পর্যন্তও পৌঁছায়নি বেশিরভাগ দেশেই। তবে বিশেষায়িত টেলিকম প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও বৃহৎ ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য এটি ভবিষ্যতের বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের এই অর্জন আসন্ন সিক্সজি প্রযুক্তি, জাতীয় ব্রডব্যান্ড পরিকাঠামো এবং নতুন সাবমেরিন কেবলের পরিকল্পনায় বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে চলেছে।

বিশ্ব যখন এখনো গিগাবিট ইন্টারনেটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন জাপানের গবেষকরা আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেলেন এক পেটাবাইট গতির যুগে। এই অগ্রগতি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং বিশ্ব যোগাযোগ ও জ্ঞানভাণ্ডারের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত