সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

চোখের নিচের ফোলাভাব: থাইরয়েডের নীরব সতর্কবার্তা?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
চোখের নিচের ফোলাভাব: থাইরয়েডের নীরব সতর্কবার্তা?

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই হঠাৎ লক্ষ্য করেন চোখের নিচে ফোলাভাব, চোখের পাতা ভারী লাগা কিংবা চোখ লালচে হয়ে আছে। ব্যস্ত জীবনে এই পরিবর্তনকে বেশির ভাগ সময়ই তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কেউ ভাবেন রাতে ঘুম কম হয়েছে, কেউ দোষ দেন মোবাইল বা ল্যাপটপে অতিরিক্ত সময় কাটানোর অভ্যাসকে, আবার কেউ ধরে নেন এটি হয়তো অ্যালার্জির সামান্য সমস্যা। কিন্তু চক্ষু ও হরমোন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের নিচের এই ফোলাভাব অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। সেই রোগটির নাম থাইরয়েড সমস্যা।

থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের অংশে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন গ্রন্থি। আকারে ছোট হলেও এর প্রভাব মানবদেহে ব্যাপক। শরীরের শক্তির মাত্রা, ওজনের ওঠানামা, হৃদস্পন্দনের গতি, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে থাইরয়েড হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম। এই গ্রন্থি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে তার প্রভাব পড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক সময় থাইরয়েডের সমস্যার প্রথম লক্ষণ দেখা দেয় চোখে।

চিকিৎসকদের ভাষায়, থাইরয়েডের সমস্যার কারণে সৃষ্ট চোখের এই জটিলতাকে বলা হয় থাইরয়েড আই ডিজিজ বা থাইরয়েড-সম্পর্কিত চক্ষু রোগ। এটি বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েড বা গ্রেভস ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজেরই চোখের চারপাশের পেশি ও টিস্যুকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এর ফলেই চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া কিংবা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

অনেক রোগী প্রথমে শুধু চোখের সমস্যাই অনুভব করেন। চোখের নিচে ফোলাভাব, সকালে চোখ খুলতে কষ্ট হওয়া কিংবা চোখে অস্বস্তি—এসব লক্ষণ শুরু হলেও তখনো শরীরের অন্য কোনো বড় সমস্যা চোখে পড়ে না। ফলে বেশির ভাগ মানুষই বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন থাইরয়েডের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হয়, তখন ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘাম, বুক ধড়ফড় করা, দুর্বলতা কিংবা মানসিক অস্থিরতার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড আই ডিজিজে চোখের চারপাশের পেশি ও চর্বিযুক্ত টিস্যু ফুলে ওঠে। এর ফলে চোখ সামনের দিকে কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ঘুমের সময়। এতে চোখ আরও শুকিয়ে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কারো কারো ক্ষেত্রে আলোতে তাকালে তীব্র অস্বস্তি হয়, চোখে ব্যথা অনুভূত হয় বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে।

এই সমস্যার একটি বড় দিক হলো, অনেকেই এটিকে সাধারণ চোখের সমস্যা ভেবে নিজে নিজেই আই ড্রপ ব্যবহার শুরু করেন। সাময়িকভাবে হয়তো চোখের লালভাব বা জ্বালাপোড়া কিছুটা কমে, কিন্তু মূল রোগ থেকে যায় অজানাই। ফলে ধীরে ধীরে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, চোখের নিচে ফোলাভাব যদি কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে থাকে এবং সঙ্গে চোখ লাল হওয়া, অতিরিক্ত পানি পড়া বা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

থাইরয়েড আই ডিজিজের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোখের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রয়োজনে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কখনো কখনো চোখের বিস্তারিত অবস্থা বোঝার জন্য বিশেষ স্ক্যান বা চক্ষু পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ধূমপান এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে এবং তাঁরা ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চোখের জটিলতা তুলনামূলকভাবে বেশি ও গুরুতর হতে পারে। তাই থাইরয়েড আই ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, চোখে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

মানসিক দিক থেকেও এই রোগ অনেককে ভোগায়। চোখের আকৃতিতে পরিবর্তন এলে অনেকের আত্মবিশ্বাস কমে যায়, সামাজিক অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে চোখ সামনের দিকে বেরিয়ে এলে তা রোগীর দৈনন্দিন জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই রোগকে শুধু বাহ্যিক একটি সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, চোখে হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। সকালে নিয়মিত চোখের নিচে ফোলাভাব, দীর্ঘদিন চোখ লাল থাকা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হলে শুধু চোখের ড্রপে ভরসা না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। কারণ চোখ কখনো কখনো শরীরের ভেতরের বড় সমস্যার নীরব বার্তাবাহক হয়ে ওঠে।

সঠিক সময়ে থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা গেলে চোখের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি ভালোও হয়ে যায়। তাই চোখের নিচের ফোলাভাবকে শুধুই ক্লান্তির লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে সচেতন হওয়াই সুস্থ জীবনের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত