সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

যে খাবার নীরবে ক্ষতি করছে মস্তিষ্ক, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার
যে খাবার নীরবে ক্ষতি করছে মস্তিষ্ক, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো মস্তিষ্ক। চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, স্মৃতি ধরে রাখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজই পরিচালিত হয় এই মস্তিষ্কের নির্দেশনায়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে যেমন সুষম খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি মানসিক সুস্থতা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতেও খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, দ্রুত প্রস্তুত খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই অজান্তেই এমন সব খাবার নিয়মিত গ্রহণ করছেন, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কিছু জনপ্রিয় ও দৈনন্দিন খাবার দীর্ঘমেয়াদে ব্রেইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব খাবার সাধারণত আমাদের রান্নাঘরেই থাকে, আবার অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর মনে করেই আমরা সেগুলো খেয়ে থাকি।

গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত টুনা মাছ খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। টুনা মাছ প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং জনপ্রিয় হলেও এতে পারদের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পারদ শরীরে জমতে থাকলে তা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, টুনা মাছ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমিত মাত্রায় এবং নিয়মিত বিকল্প মাছ গ্রহণ করাই নিরাপদ।

সয়া বড়ি, সয়াসস ও টফুর মতো সয়াজাতীয় খাবারও অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব খাবারে লবণ ও সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে, যা সরাসরি মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকলে ধীরে ধীরে স্নায়ুকোষের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং মানসিক ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দেয়।

অ্যালকোহল মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানগুলোর একটি বলে চিকিৎসাবিজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে। অল্প সময়ের জন্য অ্যালকোহল সেবনে সাময়িক আনন্দ বা প্রশান্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্কের কোষকে দুর্বল করে তোলে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে স্মৃতিভ্রংশ, সিদ্ধান্তহীনতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করলে মস্তিষ্কের কিছু অংশ স্থায়ীভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য সাদা চাল এবং সাদা আটা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পরিশোধিত চাল ও আটায় থাকা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট মস্তিষ্কের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। এসব খাবার দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের ওপরও। নিয়মিত সাদা চাল ও সাদা আটার খাবার বেশি খেলে মানসিক অবসাদ, মনোযোগে ঘাটতি এবং ক্লান্তিভাব দেখা দিতে পারে।

ফল হিসেবে কমলা স্বাস্থ্যকর হলেও বাজারজাত কমলার জুস নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত কমলার জুসে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়, যা রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে সুগারের এই ওঠানামা মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, পুরো ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে আঁশ থাকে এবং সুগার ধীরে শরীরে শোষিত হয়।

এ ছাড়া ডিপ ফ্রায়েড খাবার, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত ফাস্টফুড এবং ভাজাপোড়া খাবারও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের ওজন বাড়ে, রক্তনালিতে চর্বি জমে এবং রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেখার ক্ষমতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে শুধু ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চললেই হবে না, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল, সম্পূর্ণ শস্য, বাদাম, মাছ ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার এবং প্রসেসড ফুডের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কজনিত সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে এবং পরিমিত জীবনযাপন অনুসরণ করলেই অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বড় ধরনের মস্তিষ্কজনিত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া মানে শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবা নয়, বরং প্রতিদিন কী খাচ্ছি, কীভাবে খাচ্ছি—সেটির প্রতিও সচেতন থাকা। কারণ আজকের ভুল খাদ্যাভ্যাসই আগামী দিনের স্মৃতিভ্রংশ বা মানসিক দুর্বলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত