পৌনে দুই মাস পর সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে এলো ১১৮৮ টন ভারতীয় চাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৮ বার
সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ভারতীয় চাল

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রায় পৌনে দুই মাসের বিরতির পর আবারও সচল হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি কার্যক্রম। খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক আমদানির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই চাল আমদানির খবরে সীমান্তবর্তী এলাকা ও দেশের খাদ্য বাজারে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়াকে ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, গত বছরের ৩ ডিসেম্বরের পর এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে সীমান্ত বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয় এবং চালের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নতুন করে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি পাওয়ার পর চলতি মাসের ২৪ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দফায় ২৪ জানুয়ারি ভারত থেকে ৭টি ট্রাকে ৩১৯ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর ২৭ জানুয়ারি আরও ৫টি ট্রাকে ২২০ মেট্রিক টন এবং ২৮ জানুয়ারি ১৫টি ট্রাকে ৫৯৭ মেট্রিক টন চাল আসে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আরও একটি ট্রাকে ৫২ মেট্রিক টন চাল সোনামসজিদ বন্দরে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টনে।

কামাল খান বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই এই চাল আমদানি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শুল্ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাল খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে না পড়েন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে আমদানির এই ধারা আরও বাড়তে পারে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানি করা চালের প্রকারভেদ অনুযায়ী প্রতি কেজিতে গড় ব্যয় পড়ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। সোনামসজিদ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, আমদানিকৃত চালের মান, পরিবহন খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে এই ব্যয় নির্ধারিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সব ধরনের শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করেই চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, সর্বশেষ গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এই বন্দর দিয়ে ৫৬৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর প্রায় দুই মাস ধরে এই বন্দর দিয়ে কোনো চাল আমদানি হয়নি। দীর্ঘ এই বিরতির পর আবার চাল আমদানি শুরু হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে চালের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। নতুন করে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় সেই চাপ কমবে বলে তারা আশা করছেন। একজন চাল আমদানিকারক বলেন, ভারত থেকে নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়, যা দেশের সাধারণ ভোক্তাদের জন্য উপকারী।

খাদ্য বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয় এবং সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর আমদানি কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক খাদ্য বাজারে অস্থিরতা থাকায় বাংলাদেশ সরকার আমদানির দিকে নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সোনামসজিদ বন্দরের মতো স্থলবন্দরগুলো দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করায় চাল খালাসে তেমন কোনো বিলম্ব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা উপকৃত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও নিশ্চিত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই খবরে স্বস্তি দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত চাল আমদানি হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমে যাবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় থাকবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়া শুধু একটি বাণিজ্যিক ঘটনা নয়, বরং দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, ভবিষ্যতে এই আমদানি কার্যক্রম আরও নিয়মিত ও ধারাবাহিক হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত