প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে আজ আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই এবং দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শীতের মৌসুমের শেষভাগে এসে এমন পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ ও পরিবেশের ওপর ভিন্ন মাত্রার প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
বিএমডির নিয়মিত পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের আকাশ কিছু সময়ের জন্য আংশিক মেঘলা থাকলেও সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। বিশেষ করে নদী-নালা ও জলাশয়ঘেঁষা এলাকায় ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দিতে পারে। তবে এই কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং সূর্য ওঠার পর দ্রুত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে সাময়িক সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।
আজকের তাপমাত্রার চিত্রও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে, যেখানে পারদ উঠেছে ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, যা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ব্যবধান দেখাচ্ছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল ইতোমধ্যে উষ্ণতার দিকে এগোতে শুরু করলেও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এখনও শীতের প্রভাব কিছুটা রয়ে গেছে।
ঢাকার আবহাওয়ার চিত্রেও ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে বাতাসের দিক উত্তর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৯ শতাংশ, যা দিনের বেলায় কিছুটা কমতে পারে। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও সূর্যের উপস্থিতি থাকবে এবং দিনের তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বাড়তে পারে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে। দিন ছোট এবং রাত দীর্ঘ থাকার এই সময়টি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বসন্তের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়বে এবং তাপমাত্রাও ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী হবে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষিখাতে। বিশেষ করে বোরো ধানের চারা রোপণ ও অন্যান্য শীতকালীন ফসলের ক্ষেত্রে সেচের প্রয়োজন বাড়তে পারে। নদী ও খালগুলোতে পানির স্তর কমে গেলে সেচব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ফসলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শুষ্ক আবহাওয়ার আরেকটি প্রভাব পড়তে পারে জনস্বাস্থ্যে। বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসকরা এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শীত-গরমের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শহরাঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া ও হালকা বাতাসের কারণে ধুলাবালির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। এতে বায়ুদূষণের মাত্রা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এ সময় গাছপালা ও সবুজায়নের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জন্য আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস কিছুটা স্বস্তিরও বার্তা দিচ্ছে। বৃষ্টি না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে। বিশেষ করে শীতকালীন সবজি সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে। তবে ভোরের হালকা কুয়াশার কারণে সকালে সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও আপাতত বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাতাসের গতিবেগ মাঝারি থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে কোনো সতর্ক সংকেত জারি করা হয়নি। তবে উপকূলবাসীদের নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আজকের আবহাওয়া বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টির আশঙ্কা নেই, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং শীতের প্রকোপ কমে আসছে। এই পরিবর্তন ঋতুচক্রের স্বাভাবিক ধারারই অংশ, যা মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও পরিবেশে ধীরে ধীরে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও সামান্য বাড়তে পারে এবং শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। তাই সবাইকে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।