প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
অভিনয় জগতে প্রবেশ খুব ছোট বয়সেই। কিন্তু সেই শোবিজ জীবনেও ঢুকে পড়েছিল শৈশবের কৌতূহলী প্রেম, মায়ের কঠোর নজরদারি, আর একসময় ধরা পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। এই সবকিছুই অকপটে প্রকাশ করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি ফিরলেন নিজের কৈশোর জীবনের সেই চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ে, যা একদিকে রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে সাবধানতাসম্পন্ন মায়ের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব ছিল।
ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায় বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, কখনও তাঁর নাটকীয় প্রেম নিয়ে, আবার কখনও ভাঙা সম্পর্ক নিয়ে। বিশেষ করে অভিনেতা ইন্দ্রাশিস রায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যখন তোলপাড় হচ্ছিল মিডিয়া, তখন নিজেই সেই জল্পনা সরিয়ে দিয়েছিলেন। আবার, প্রাক্তন স্বামী অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়েও ইন্ডাস্ট্রিতে কম চর্চা হয়নি।
তবে এবার অতীত স্মৃতির পাতা খুলে শৈশবের এক মিষ্টি প্রেম কাহিনি শোনালেন তিনি। সময়টা ছিল ‘কেয়াপাতার নৌকো’ ধারাবাহিকের শুটিংকাল। সহ-অভিনেতার এক বন্ধু প্রায়ই শুটিং সেটে আসতেন, সেখান থেকেই আলাপ এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেম। বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় দশ বছর। তবুও সেই বয়সে প্রেমের আবেগে বাঁধা পড়ে যান ছোট্ট ইপ্সিতা।
তখনকার দিনে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের প্রচলন ততটা ছিল না। মোবাইল ফোনে মেসেজই ছিল একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু মায়ের উপস্থিতিতে গোপন কোনো সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া ছিল রীতিমতো কঠিন। মা ছিলেন শুটিং স্পটে সবসময় সঙ্গী। ফলে একটু সময় বের করে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলা কিংবা মেসেজ চালাচালি করাও ছিল দুঃসাহসিক একটা অভিযান।
ইপ্সিতা অকপটে বলেন, “আধঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকার অভিনয় করতাম। তারপর মায়ের ঘুমানোর সুযোগে চুপিচুপি উঠে গিয়ে মেসেজে কথা বলতাম। মায়ের ফোন থেকেই কখনও কখনও যোগাযোগ হতো। পরে যখন নিজের একটা ফোন পেলাম, সেটা কয়েক দিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে গেল। তখন মা-কে বলেছিলাম, মেসেজটা খুলে দেখো না! ওটাই কাল হলো। মায়ের সন্দেহ জাগে।”
এরপর যে ঘটনা ঘটে, তা রীতিমতো সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। ইপ্সিতার মা সরাসরি ছুটে যান সেই ছেলের বাড়িতে। গিয়ে জানিয়ে দেন, “আমার মেয়ের বয়স ১৮ হয়নি। ওর আশপাশে আর দেখলে, থানায় অভিযোগ করবো।” সেদিনের সেই সাহসী ও কঠিন মায়ের উপস্থিতিই ইপ্সিতার প্রেমকাহিনির যবনিকা টেনে দেয়।
অভিনেত্রী জানান, সেই সময়টায় মায়ের কঠোর আচরণ হয়তো তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, কিন্তু আজ বুঝতে পারেন, মা যা করেছেন, সেটাই সঠিক ছিল। কারণ বয়সের তুলনায় সম্পর্কের গভীরতা বোঝার মতো পরিপক্বতা তখন তাঁর মধ্যে ছিল না।
শৈশবের এই স্মৃতি ইপ্সিতার মুখে উঠে এল হাসিমাখা কণ্ঠে। যদিও এখনকার বাস্তবতা, পরিণত বয়সে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে এখনও কম জল্পনা নেই। তবুও সেই পুরনো অধ্যায়ের কথা মনে করে আজও কৌতুকের সুরে বলেন—“ফোনটা যদি একটু ভালো চলত, হয়তো ধরা পড়তাম আরও পরে!”
ইপ্সিতার এই অকপট স্বীকারোক্তি শুধু তারকাজীবনের পেছনের গল্প নয়, বরং প্রতিটি কিশোরী মেয়ের এক চেনা অভিজ্ঞতার কথা, যেখানে আবেগ, ভয়, সাহস আর মা-বাবার কঠোরতাও একরকম ভালোবাসা হয়ে থাকে।