বিএনপিকে শুভেচ্ছা, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নজর কাড়া শুরু করেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে, নির্বাচনে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে শুভেচ্ছা জানায়।

চীনা দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এছাড়াও নির্বাচনে এগিয়ে থাকার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শুভেচ্ছা। আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

এ বার্তা কেবল শুভেচ্ছা নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্দেশক হিসেবেও ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের পক্ষ থেকে এই বার্তা দুই দেশের অর্থনৈতিক, অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাব্য বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করছে। ১৯৭২ সাল থেকে স্থাপিত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে চীন সবসময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উৎসাহী।

এর আগে, নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসও একই ধরনের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়। তারা জানায়, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। মার্কিন দূতাবাস তাদের পোস্টে উল্লেখ করে, ‘বিএনপি এবং তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও তারেক রহমান এবং বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মোদি এক্সে পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বড় বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।’ তিনি আশ্বাস দেন যে ভারত গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে চীনের বার্তা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, চীনের সঙ্গে নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় আশা করা যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বার্তাগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০০টির বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। দেশের সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেছেন এবং কোনো বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হলে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক আলোচনায় জোর দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, চীনের শুভেচ্ছা বার্তা কেবল কূটনৈতিক বিনিময় নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি গড়ার প্রতিশ্রুতিও বহন করছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং সমর্থন ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত