ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এমন এক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত-এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে কথা বলেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ

শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার ভাষ্যে এই রায় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ন্যায্যতা ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে কেবল প্রতিবেশী নয় বরং সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই হবে নতুন সরকারের নীতি। সার্বভৌমত্ব সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে তিনি ভবিষ্যৎ কূটনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এসব বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি জানান বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন সবকিছুই আইনানুগ পথে হবে।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জনগণের প্রত্যাশিত ভোটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং দুর্নীতি দমনকে তিনি তাৎক্ষণিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন তাদের লড়াই ছিল গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত একত্রিশ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে বলে জানান। জুলাই জাতীয় সনদকে তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে আখ্যা দেন এবং অক্ষরে অক্ষরে পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন স্বাধীনতার পর গঠিত সংসদগুলোর মধ্যে আসন্ন সংসদ সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন করবে এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতি নির্মূলকে তিনি তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি জানান নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠন শুরু হবে। রাজনৈতিক মহলে এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার।

শেষে তিনি গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে নতুন সরকার একটি সাম্য ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বার্তা দিতে চায়। এখন দেখার বিষয় কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে আঞ্চলিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত