ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে গুরুতর পরিণতি: রাশিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা রাশিয়া

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তা গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তিনি আরও যোগ করেছেন, তেহরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচী চালানোর সুযোগ দিতে ধৈর্য ধরে সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টেলিভিশনে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ এসব মন্তব্য করেন। রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিকের ভাষায়, “এর পরিণতি ভালো হবে না। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে ইতিমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর আমরা অনুমান করতে পারি, এর ফলে পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।”

ল্যাভরভ আরও বলেন, তিনি সতর্কভাবে অঞ্চলটির অন্যান্য দেশগুলো, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। “উত্তেজনা বাড়ানো কোন পক্ষই চায় না। সবাই বুঝতে পারছে, এটা আগুনের সঙ্গে খেলাধুলার মতো। এমন পরিস্থিতিতে অতীতের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো অকার্যকর হয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবসহ নিকটবর্তী দেশগুলোর সম্পর্কের উন্নতিও অন্তর্ভুক্ত।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নতুন সংকট এড়াতে পরোক্ষ আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার একদিন পর ল্যাভরভের সতর্কবার্তা প্রকাশিত হলো। এই আলোচনায় ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অচলাবস্থা সমাধানে সহায়ক হবে।

ওই সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, “উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক বছরের অর্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পদক্ষেপগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এটি কেবল অঞ্চল নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বিপদ সৃষ্টি করবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “যদি ইরানে নতুন কোনো হামলা হয়, তা একক ঘটনা নয়, এটি পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে।”

একই সময়ে, বুধবার এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জেনেভায় আলোচনার পর ইরান কিভাবে অচলাবস্থা সমাধান করতে চাচ্ছে, তা একটি লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে জানাবে। এদিকে, হোয়াইট হাউসে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত সব সামরিক বাহিনী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছোটোখাটো সামরিক পদক্ষেপও বড় আন্তর্জাতিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ল্যাভরভের মন্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী হামলার অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে যে সামান্য দূরত্বে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং এটি প্রমাণ করে যে, নতুন কোনো সামরিক সংঘাত পুরো অঞ্চলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

রাশিয়ার এই সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে, সৌদি আরব, ইরান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ল্যাভরভের মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ধরণের কূটনৈতিক অগ্রগতি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হঠাৎ হামলা চালায়।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পারমাণবিক কর্মসূচী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি নাশকতা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। রাশিয়ার সাবধানী অবস্থান এবং ধৈর্য ধরে সমাধান খোঁজার আহ্বান, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এ অবস্থায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ এখন জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায়। সকল পক্ষই চাইছে, নতুন কোনো সংঘাত এড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস করা। রাশিয়ার সতর্কবার্তা এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন কোনো হামলা বা প্রায়োগিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।

সের্গেই ল্যাভরভের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে যে, ইরানে সামরিক পদক্ষেপে ঝুঁকি নেওয়া হলে তা কেবল ওই দেশ নয়, সমগ্র অঞ্চলে গুরুতর পরিণতি সৃষ্টি করবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখন কূটনৈতিক ধৈর্য, সংলাপ ও সমঝোতার বিকল্প নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com