প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিপাশা বসুর সঙ্গে আলোচিত প্রেমের পর বলিউড তারকা জন আব্রাহামের জীবনে যিনি প্রেমিকা ও পরে জীবনসঙ্গিনী হয়ে আসেন, তিনি কোনো চিত্রতারকা নন—বরং একজন পেশাদার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। তার নাম প্রিয়া রাঞ্চল। জন ও প্রিয়ার পরিচয় এবং পরে প্রেম, সবকিছুই হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আড়ালে রাখা এক অধ্যায়। ২০১৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হলেও মিডিয়া থেকে তারা বহু দূরত্ব বজায় রেখেছেন। অথচ বিয়ের ১১ বছর পূর্ণ হলেও জন ও প্রিয়ার পরিবারে এখনো নতুন কোনো অতিথি আসেনি—এ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল বহুদিন ধরেই। এবার সেই রহস্যের অবসান ঘটিয়েছেন স্বয়ং জন আব্রাহাম।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বলিউড তারকা স্বীকার করেন, তিনি এখনো বাবা হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, বাবা-মা হওয়ার জন্য শুধুমাত্র শারীরিক প্রস্তুতি নয়, মানসিক পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটি যতদিন না পর্যন্ত নিজের ভেতর থেকে আসে, ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উচিত।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দাম্পত্যে ১১ বছর পেরোলেও সন্তান নেওয়ার প্রশ্নে তিনি নিজেই পিছিয়ে আছেন। জন আরও বলেন, “প্রিয়া একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও পরিণত মানুষ। সে চাইছিল সন্তানের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে। কিন্তু আমি এখনও নিজের ভেতরে সেই প্রস্তুতি পাইনি। এটা আমার দুর্বলতা, আমি তা স্বীকার করছি।”
জন আব্রাহামের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি বলিউডে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তার সমসাময়িক বহু তারকা ইতোমধ্যে সন্তান লালন-পালনে ব্যস্ত। এমনকি প্রাক্তন প্রেমিকা বিপাশা বসুও কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রসঙ্গ উঠে আসছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জন কি সত্যিই সন্তান চাচ্ছেন না, নাকি অন্য কোনো জটিলতা আছে যার কথা তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন?
জন ও প্রিয়ার দাম্পত্যে কোনো ধরনের অশান্তি বা দূরত্বের খবর অবশ্য এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। বরং উভয়েই সবসময় নিজেদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত রেখেই স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করেছেন। জনের মতে, “প্রিয়া চেয়েছিল ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার বাইরে থাকতে। ও কখনোই চায়নি সংবাদমাধ্যম তার বা আমাদের দাম্পত্যের ওপর খবরের শিরোনাম বানাক। আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু শিখেছি, এগিয়েছি, এবং একে অন্যের চিন্তাভাবনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি।”
তবে এ বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, সন্তান না হওয়া নিয়ে জনের মধ্যে কোনো দুঃখ নেই, বরং নিজের প্রস্তুতির অভাবেই তিনি এখনও সেই সিদ্ধান্ত থেকে দূরে।
জন আব্রাহামের এই স্বীকারোক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলেও মত দিয়েছেন অনেক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজের চাপের মুখেও যারা নিজেদের অনুভূতি ও প্রস্তুতির গুরুত্ব দেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিই সুস্থ সম্পর্কের পরিচায়ক।
এখন দেখা যাক, ভবিষ্যতে এই তারকা দম্পতি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে এগোন কি না—তবে আপাতত তারা সন্তানের অভাব নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানকেই প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের জীবন এগিয়ে নিচ্ছেন।