প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ১টা ৫৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারো ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের দমনে কেউ কোনো তীব্র ক্ষয়ক্ষতির খবর না দিলেও রাজধানী ও আশপাশের জেলা শহরগুলোতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়েছেন।
বাংলাদেশ ভূমিকম্প নজরদারি কেন্দ্রের প্রাথমিক তথ্যানুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের মেঘনায় এবং এর মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে প্রায় ৪.২ মাত্রার রিখটার স্কেলে। কম্পনের তীব্রতা প্রধানত ঢাকার পাশাপাশি গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র এবং কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের ভূকম্পন নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, বঙ্গোপসাগরীয় প্লেটের ক্রমবর্ধমান ভূমিকম্পপ্রবণতা ও টেকটোনিক ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বের হওয়া মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাতে কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য খোলা জায়গায় চলে যান। স্কুল, কলেজ ও অফিসগুলোতে এখনো কার্যক্রম না থাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কম্পন অনুভূতির সময় অনেক বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের বাড়ি ও ভবনের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করেছেন।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের জন্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেন, “ভূমিকম্প সাধারণত স্বাভাবিক ঘটনা, তবে ঘরবাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অতিরিক্ত আতঙ্ক পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করতে পারে।”
এদিকে, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কোনো জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে তা দ্রুত সরবরাহ করা হবে।
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ঘটনা ক্রমবর্ধমান হলেও সচেতনতা ও প্রস্তুতি মানুষকে ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সরকারি ও নাগরিক উভয় পক্ষকে প্রস্তুত থাকতে হবে।